ভ্যাক্সিন সিডিউল কিসের উপর নির্ভর করে।

ভ্যাক্সিন সিডিউল কিসের উপর নির্ভর করে।

ভ্যাক্সিন সিডিউল হবে প্রতিটা খামারীর জন্য আলাদা ,এটা ন্যাশনাল হ ওয়া ঠিক না তবে একটা ফার্মে বা কাছাকাছি কিছু এলাকা বা ফার্মে কিছু ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে এক হ ওয়া উচিত।কেউ দিবে আবার কেউ দিবেনা এমন হলে কাজ হবে না বরং ক্ষতি হতে পারে।

একবার একটা ভ্যাক্সিন ফার্মে বা এলাকায় দিলে পরে সেই ফার্মে বা এলাকায় সেই ভ্যাক্সিন দেয়া লাগবে।তাই সিডিউল দেয়ার সময় চিন্তা ভাবনা /জেনে শুনে করা উচিত।

যেমন আই বি ভেরিয়েন্ট,এ আই,আই এল টি,গাম্বোরু (ইন্টার্মেডিয়েট প্লাস) ভ্যাক্সিন গুলো একবার দিলে পরে দেয়া উচিত।

১।লোকাল ডিজিজ;যে এলাকায় যে রোগ হয় সেসব ভ্যাক্সিন দিতে হবে কিন্তু আমাদের দেশের খামারীরা ভ্যাক্সিনের নাম শুনলেই দিতে চায় এবং দিয়ে থাকে।খামারীরা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস না করে ভ্যাক্সিন ম্যানদের কাছে জানতে চায়,তাছাড়া বেশি ভ্যাক্সিন দেয়ার সুবিধার জন্য তারা সব ভ্যাক্সিন দেয়ার জন্য প্ররোচিত করে।.

২।দেশের অবস্থা মানে দেশে কি কি রোগ হচ্ছেঃ

৩।কোন ভ্যাক্সিন কখন দেয়া যাবে বা যাবেনা তা জানতে হবে যেমন মেরেক্স টিকা হ্যাচারীতে দিতে  হবে না দিলে পরে দিয়ে লাভ হবে না।কিন্তু আমাদের দেশে ৮০-৯০% খামারী ১০-১৪দিনে করে থাকে।.

৪।বাজারে প্রচলিত ভ্যাক্সিন সমূহ এবং স্ট্রেইন

৫।আগে নিজের ফার্মে কি কি রোগ হয় তা বিবেচনা করে ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

৬।আশপাশের ফার্মের অবস্থাঃ

৭।সিজন বিবেচনা করতে হবেঃসব সিজনে সব রোগ সব ভাবে হয় না যেমন এ আই,রানিক্ষে্‌ত,আই বি শীতে বেশি হয় তাই শীতে গুরুত্ব দিতে হবে।

৮।মার্কেটের ভ্যাক্সিনের সাথে ফার্মের জীবাণু/স্ট্রেইনের মিল আছে কিনাঃ

ভ্যাক্সিন দিলেই হবে না ফার্মে যে জীবাণূ আছে সেগুলোর সাথে মিল থাকতে হবে।

৯।একেক জেলায় বা একেক দেশে বা একেক মহাদেশে একেক রোগ হয়ঃ

রোগ থাকতে টিকা দিতে হবে না থাকলে যদি টিকা দেয়া হয় তাহলে নতুন রোগের আমদানি হবে।পরে সব সময় সেই ভ্যাক্সিন দেয়া লাগতে পারে।

১০।ব্রিডার,লেয়ার,ব্রয়লার,সোনালি/কক,কালার বার্ড অনুযায়ী রোগ হয়।সবার ভ্যাক্সিন এক হবে নাঃ

জাত অনুযায়ী রোগ আবার রোগ অনুযায়ী ভ্যাক্সিন হয়।তাই এসব বিবেচনা করে টিকা দিতে হবে।তাছাড়া ব্যবস্থাপনাও আলাদা হয়।

ব্রিডারে  সবচেয়ে বেশি দেয়া হয় কারণ তাদের ব্যবস্থাপনা ভাল।তাছাড়া বাচ্চাতে যাতে ম্যাটার্নাল এন্টিবডি আসে সে দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

১১।হ্যাচারীতে কি কি টিকা দেয়া আছে তা জানতে হবেঃ

ব্রিডার কোম্পানীকে তাদের বাচ্চার ম্যাটার্নাল এন্টিবডি কত তা জানিয়ে দিতে হবে এবং কবে শেষ হবে তা বলে দিতে হবে।সেই অনুযায়ী ভ্যাক্সিন হবে তখন গাম্বোরু বা রানিক্ষেতের ভ্যাক্সিন ফেইল হবার সম্বাবনা কমে যাবে।

নোটঃ

অনেক দেশেই  এন্টিজেন এন্টিবডি কমপ্লেক্স বা ভেক্টর মিউন ভ্যাক্সিন হ্যাচারীতে দিয়ে দেয় ফলে ফার্মে আর গাম্বোরুর টিকা দিতে হয় না।

সাল্মোনেলা,মাইকোপ্লাজমা ভ্যাক্সিন কেন ১দিনে/১ম সপ্তাহে গুরুত্ব দেয়া হয়না(তবে কিছু কিছু কোম্পানীর দেয়া হচ্ছে/যায়।)

কারণ ১ম সপ্তাহে মেরেক্স,আই বি,রানিক্ষেত,আই বি ডি,এই ৪টি ভ্যাক্সিন করতে হয় ফলে ভ্যাক্সিন দেয়ার মত সময় পাওয়া যায় না,এসবের টাইটার উঠার জন্য অনেক প্রোটিন দরকার হয়।আরো ভ্যাক্সিন দিলে তা খুব ভাল কাজ করবে না।তাছাড়া ধকল বেশি পড়বে।

তাছাড়া বাচ্চাতে সাম্লমোনেলা ও মাইকোপ্লাজমার লোড থাকায় ভ্যাক্সিন দিলেও তেমন কাজ হবে না।তাই প্রতি মাসে সাম্লোনেলা ও মাইকোপ্লাজমার ডোজ করে জীবাণূর লোড কমিয়ে তারপর সাল্মোনেলা বা মাইকোপ্লাজমার ডোজ করতে হয়।

আমাদের দেশে খামারীরা সব টিকা দিতে চায় দরকার আছে কিনা তা জানতে চায় না।

গাম্বোরু ভ্যাক্সিন কখন দিতে হবে তা কিসের উপর নির্ভর করেঃ

আই বি ডি ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে ২টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

ক।আই বি ডির স্টেইন ফার্মে কোনটা আছে

খ। বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এন্টিবডি কত টুকু আছে কত দিন যাবে।

গ।ভ্যাক্সিন আছে ২ ধরণের কোন টা করবো

ঘ।কেউ বলে ইন্টার্মিডিয়েট আগে কেউ বলে প্লাস আগে।

১।বাচ্চা কোম্পানী বাচ্চার ম্যাটার্নাল এন্টিবডি জানাতে হবে বা তাদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে,এমন কি কোম্পানী যদি না দেয় তাহলে বাচ্চা নেয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

.২।ফার্ম মতুন না পুরান।ফার্মের গাম্বোরুর ইতিহাস।

৩।ভ্যাক্সিন কোম্পানীর ভ্যাক্সিনের ধরণ ও সিডিউল।প্রতি কোম্পানীর ভ্যাক্সিনের টেকনোলজি একেক রকম তাই সিডিউল ও একেক রকম তাই কোম্পানীর সিডিউল মেনে দেয়া উচিত।তবে কোম্পাণির দায়িত্বশীল ব্যাক্তির কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।ভ্যাক্সিন বিক্রির জন্য বা না জানার কারণে কেউ কেউ ভুল বলতে পারে।

এন্টিবডি জানা না থাকলে ইন্টার্মেডিয়েট প্লাস ভ্যাক্সিন আগে দেয়া উচিত,ম্যাটার্নাল এন্টিবডি কবে শেষ হবেতা যদি জানা থাকে তাহলে ইন্টার্মেডিয়েট ভ্যাক্সিন।ইন্টার্মেডিয়েট ভ্যাক্সিন গুলো নরমালী দেরিতে দেয়া হয় আর ইন্টার্মেডিয়েট প্লাস ভ্যাক্সিন গুলো আগে দেয়া যায়।

নরমালি ইন্টার্মেডিয়েট ভ্যাক্সিন ১০-১২দিনের পর হয় কারণ তখন এম ডি এ ১০০-২০০ হয়।(কোন টা আবার ৫০০-৭০০তে আসলে দিতে হয়)

নোটঃফার্মের বাচ্চা যদি একই কোম্পানীর হয় আর গাম্বোরু ফার্মে চলে আসে তাহলে পূর্বের নির্ধারিত সময়ের ৩-৪দিন আগে ভ্যাক্সিন দিলে না হবার সম্বাবনা আছে।

িন্টারমেডিয়েট ভ্যাক্সিন D78,CH80)।এটা মাইল্ড ফর্মের আই বি ডির বিরুদ্ধে কাজ করে।এটার ব্রেক থো টাইটার কম (Break Through)।

এটার সাইড ইফেক্ট কম। এন্টিবডি থাকা অবস্থায় দিলে ম্যাটার নাল এন্টিবডি কমে যায় এবং টাইটার উঠে না।গাম্বোরু হয়ে যেতে পারে।

এটা দিয়ে আই বিডিন্ন স্ট্রেইন কভার করা যায় না।

ইন্টারমেডিয়েট প্লাসঃ(২২৮ই,জি এম ৯৭) এটা ক্লাসিকেল,ভেরিয়েন্ট,ভিভি আই বি ডির বিরুদ্ধে কাজ করে।এটার ব্রেক থো টাইটার বেশি (Break Through)

এটি বার্সার ক্ষতি করে ফলে ইমোনিটী কমে অন্যান্য ডিজিজ চলে আসতে পারে।

এন্টিবডি থাকা অবস্থায় দেয়া যায় এবং কাজ করে।

 

Please follow and like us:

About admin

Avatar

Check Also

রানিক্ষেতের ভ্যাক্সিন নিয়ে বিস্তারিত

রানিক্ষেতের ভ্যাক্সিন নিয়ে বিস্তারিত ১।লাইভ লেন্টোজেনিকঃ লাইভ টিকা গুলো মেইনলি লেন্টোজেনিক( মেসোজেনিকও আছে যেমন  আর ...

Translate »
error: Content is protected !!