পোল্ট্রির বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা

পোল্ট্রির বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা

লেয়ার,ব্রয়লার ও সোনালী (পোল্ট্রির) ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সবচেয়ে ভাল।আক্রান্ত হয়ে গেলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না।

অনেকেই জানতে চায় রোগটি কেন হল,কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়।তাদের জন্য লেখাটি কাজে লাগবে।

।সাল্মোনেলা(পুলোরাম)

রোগ প্রতিরোধ এবং দমনঃ

খাদ্যঃ

খাদ্যের উপাদান ভাল ভাবে সংরক্ষন করতে হবে তা নাহলে ইদুর বা অন্যান্য পোকা মাকড়  দ্বারা রোগ খাদ্যে আসতে পারে।

ফিড মিলের যন্তপাতি গুলো ভাল ভাবে পরিস্কার না করলে সালমোনেলা আসতে পারে,৮২ সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রায় খাদ্য পিলেটিং করতে পারলে সালমোনেলা কিছুটা কমে।

খাদ্যে এসিডিফায়ার সালমোনিল ড্রাই ৩০০-৪০০গ্রাম ১০০কেজি খাদ্যে দিলে ভাল হয়।

খাদ্যে প্রবায়োটিক প্রটেক্সিন ১০০ গ্রাম ১ টন খাদ্যে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

ইদুরের পরেই কবুতরের স্থান তাই এসব যাতে আশে পাশে না আসে বা থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

ডার,বাচ্চা,বয়স্ক মুরগি এবং ডিম এক সাথে বিক্রি করা যাবেনা।

কেউ যাতে সালমোনেলা জীবানূ নিয়ে ফার্মে না ঢুকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্রীডার এবং  হ্যাচারির বায়োসিকিউরিটি ভাল করতে হবে যাতে সা্লমোনেলা মুক্ত থাকে।

 

২।টাইফয়েড

প্রতিরোধ:

#ভাল কোম্পানি এবং হ্যাচারীর বাচ্চা নিতে হবে
#বায়োসিকিউরিটি  মেনে চলতে হবে
#পানিতে প্রবায়োটিক,ক্লোরিন এবং এসিডিফায়ার ব্যবহার করতে হবে.
#রীতিমত স্প্রে করতে হবে.

খাদ্যে মিটবোন ব্যবহার কমিয়ে উদ্ভিজাত প্রোটিন ব্যবহার করতে হবে।

টিকা দেয়া যায়।

 

 

৩।মাইকোটক্সিন

প্রতিরোধঃ

১।টক্সিনযুক্ত খাবার বন্ধ করতে হবে।

২।খাদ্যের মোল্ড দমন করা

খাদ্যই মাইকোটক্সিনের উৎপত্তি স্থল কারণ খাদ্য শস্যে বেশি জলীয় বাষ্প এবং নস্ট খাদ্য শস্য ,খাদ্য সংরক্ষণ ঠিক না হলে মাইকোটক্সিন নিঃসরিত হয়।খাদ্য শস্য বায়ু চলাচল করে এমন ছিদ্রবিহীন ছাদের নীচে এবং বস্তায় উচুতে রাখতে হবে।মেঝে এবং প্রাচীরে শক্তিশালী জীবাণূনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে ব্যাক্টেরিয়া এবং মোল্ড ধবংস হয়।

৩।খাদ্যের মাইকোটক্সিন নস্ট করাঃ

খাদ্য শস্যের মাইকোটক্সিনকে মুক্ত করার অনেক কিছু আছে

ক।জৈব এসিড,জিওলাইটস,কপার সালফেট এক ত্রে ব্যবহার করে। বিভিন্ন জৈব এসিড যেমন ফরমিক এসিড ,প্রোপায়নিক এসিড,এসিটিক সাইট্রিক এসিড খাদ্যে মিশিয়ে খাদ্যের পি এইচ কমানো হয়।এর ফলে ব্যাক্টেরিয়া এবং মোল্ড  জন্মানো ব্যহত হয়।এছাড়া জিওলাইটস হচ্ছে ক্যালসিয়াম লবণ যাকে HSCAS   বলা হয়।হাইড্রেটেট সোডিয়াম ক্যালসিয়াম এলুমিনিয়াম সিলিকেট। এই লবণ অন্ত্রনালীতে মাইকোটক্সিন কে বেধে ফেলে এবং ক্ষতিমুক্ত হয়ে বিস্টার সাথে বের হয়ে যায়।এম্অন টক্সিন বাইন্ডার সিলেট করতে হবে যাতে মোল্ডের জন্ম রোধ করে পাশাপাশি টক্সিন কে বাইন্ড করে (টক্সিনিল ড্রাই)

খ।খাদ্য রোদ্রে শুকানো এটা ভাল পন্থা কিন্তু এতে খাদ্যের পুস্টি মান নস্ট হয়।

গ.১৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে খাদ্যকে ঝলসালে খাদ্য টক্সিন কমে যায়

ঘ।আল্টা ভায়োলেট এবং ইস্ট কালসার

 

৪।সি সি আর ডি

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণঃ

বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা।

মাইকোপ্লাজমা মুক্ত বাচ্চা আনা

খাবারে যাতে ই-কলাই না থাকে বিশেষ করে পিলেট খাবারে ই-কলাই তেমন থাকে না।

অল ইন অল আউট মেনে চলা।

নিয়মিত সেরোলজিকেল টেস্ট করা।

ব্রিডারকে মাইকোপ্লাজমা, ই- কলাই,এন ডি ,আই এল টি,আই বি ডি রোগের টিকা দেয়া উচিত।

মাইকোপ্লাজমা পজেটিভ ব্রিডারকে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক দিতে হবে যাতে ডিমের মাধ্যমে এর বিস্তার রোধ হয়।

একই বয়সের মুরগি পালন করতে হবে।

ই-কলাই মুক্ত পানি দিতে হবে।

হ্যাচারীতে যাতে বায়োসিকিউরিটি মেনে চলে

রানিক্ষেত,আই বি, আই এল টি ,আই বি ডির টাইটার মাত্রা যাতে ভাল থাকে।

মাইকোপ্লাজমার টেস্ট করে মাইকোপ্লাজমার ডোজ করা

এটা এমন একটা রোগ যার ফলে খামারীর কাছে মনে হয়  মেডিসিন ভাল না,ডাক্তার ভাল চিকিৎসা দিতে পারেনা,টিকা ভাল না ইত্যাদি।

সত্যিকার অর্থে এখানে মেডিসিনের কাজ খুব বেশি নাই কারণ এখানে ভাইরাস অনেক সময় জড়িত হয়ে যায়।ব্রয়লারে হলে খামারী বিক্রি করে দেয় আর লেয়ারে হলে অনেকদিন লাগে ভাল হতে।

কিন্তু  এটা কেন হলো তা ভাবার সময় খামারীর নাই।

চিকিৎসা করে পোল্ট্রি সব সময় সব কিছু  হয় না,রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা উচিত।

 

৬।ফ্যাটি লিভার

প্রতিরোধঃ

এনার্জি মানে ক্যালরি( খাবার) কম দিতে হবে।

আফ্লাটক্সিন মুক্ত খাবার দিতে হবে,এটি ফ্যাট পরিপাকে বাধা দেয় ফলে তা লিভারে জমা হয়।

বড় সাইজের ক্যালসিয়াম দিতে হবে যাতে বেশি ক্যালসিয়ামের জন্য বেশি খাবার না খায়।খাবারে ক্যালসিয়াম কম থাকলে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরন করার জন্য পাখি বেশি খাবার খায়।

ক্লোলিন ক্লোরাইড দিতে হবে।

ডিম পাড়ার শুরুতে ফ্যাট বেশী দিতে হবে।

বয়স্ক লেয়ারকে এ্নার্জি মানে খাবার কম দিতে হবে,বেশি দিলে ফ্যাট আকারে লিভারে জমা হবে।

ডিম পাড়ার শুরুতে এনার্জি বেশি দিতে হবে আনস্যাসুরেটেড ফ্যাট থেকে দিতে হবে,কার্বোহাইড্রেড থেকে নয়।

লিপোট্রপিক এজেন্ট ( সেলেনিয়াম,ই,বি১২) দিতে হবে।

ডিম পাড়ার সময় থেকে ১৫ দিন পর পর  এবং ৫০ সপ্তাহের পর ৩০ দিন পর পর ওজন নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

।কলিব্যাসিলোসিস

প্রতিরোধঃ

বায়োসিকিউরিটি মেনে চলে।

জীবানূমুক্ত পানি দেয়া।

ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ভাল রাখা।

অল্প জায়গায় বেশি মুরগি না রাখা।

ধূলাবালি মুক্ত রাখা ও বেশি শুকনা যাতে না হয়।

সঠিকভাবে ব্রুডিং করা যাতে এয়ারস্যাক ইনফেকশন না হয়।

হ্যাচারী ও ব্রিডার ফার্ম জীবানূ মুক্ত রাখতে হবে।

ডিমের সাথে যাতে মল না থাকে।

সুষম খাবার দেয়া যাতে ভিটামিন এ,সি ,ই, জিংক প্রোটিন সঠিক পরিমাণে থাকে।

খাদ্য ও পানির সাথে ভিটামিন- এ -যুক্ত  রাখা।

অতিরিক্ত ঠান্ডা,গরম ও এমোনিয়া গ্যাস যাতে না হয়।

বন্য প্রানী ও ইদুর যাতে ফার্মে না ঢুকে।

মাইকোপ্লাজমামুক্ত হ্যাচারী থেকে বাচ্চা আনা।

নোটঃ

লেয়ারে প্রায়ই কিছু কিছু মুরগি মারা যায় যার প্রধান কারণ কলিব্যাসিলোসিস।

ব্রয়লারের  কমন সমস্যা  কলিব্যাসিলোসিস।

 

৮।নেক্রোটিক এন্টারাইটিস

প্রতিরোধঃ

প্রিডিস্প্রোসিস ফ্যাক্টরগুলো দূর করতে হবে।

কক্সিডিওসিস এবং গাম্বোরু যাতে না হয়।

খাবারে আয়োনোফর দেয়া উচিত।

ব্যাসিট্রাসিন বা লিঙ্কোমাইসিন খাবারে দেয়া যায়।

নিউট্রিশনঃ খাবারে ফিসমিল বেশি দেয়া যাবেনা।

লিটার ঃলিটার ভাল মানে আর্দ্রতা ২০-২৫% এর মধ্যে রাখতে হবে,শীতকালে ৩ -৪  ইঞ্চি গরমকালে ১-২ ইঞ্চি রাখতে হবে।

ফিডঃ এই জীবানূ গুলো স্পোর ফরমিং এবং হিট রেজিস্ট্যান্ট,৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রায় ও কিছু সময় এরা বেচে থাকে।
খাবারে বা পানিতে প্রবায়োটিক দেয়া যায়।(Lactobacilus acidofilus and Streptococcus faecium)

লবণ লিটারে দেয়া যায় ১০০০ বর্গফুটে ২০কেজি।

 

৯।করাইজা

রোগ প্রতিরোধঃ

ভাল ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মুরগি যেন ধকলে না পড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

ঠান্ডা বাতাস যেন না লাগে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বন্য প্রানী যেন না ঢুকতে পারে।

একই বয়স,জাত ও উৎস থেকে মুরগি আনতে হবে।

বিভিন্ন বয়সের মুরগি আলাদা পালতে হবে।

মুরগি ঘন থাকলে পাতলা করতে হবে।

রোগাক্রান্ত পাখি পারলে সরাতে হবে।

টিকা দিতে হবে ২টি।

১ম বার ৬-৮ সপ্তাহে

২য় বার ১২-১৪ সপ্তাহে

টিকা  দিলে রোগ হবেনা এমন বলা যাবেনা কিন্তু হলেও ডিম প্রডাকশন ভাল থাকবে।

মুরগি বিক্রি করার পর ভাল ভাবে জীবানূমুক্ত করতে হবে।

নোটঃএমন টিকা দিতে যে টিকায় বি ভেরিয়েন্ট আছে কিছুটা দামি টিকা।অনেক ফার্মে দেখা যায় বি ভেরিয়েন্ট ছাড়া কম দামি করাইজা টিকা দিচ্ছে ।এতে করাইজা হচ্ছে।

 

১০।পক্স

প্রতিরোধঃ

মশা,আঠালি এবং ফ্লি দূর করতে হবে।

টিকা দিতে হবে ৪-৬ সপ্তাহে ১ বার এবং যদি বার বার পক্স হয় তাহলে ১৪ সপ্তহে ২য় বার হবে,পাখনায় সুচ দিয়ে খুচিয়ে  (নন এটিউনেটেড লাইভ ভাইরাস)

টিকা দেয়ার জায়গায় ১টি পক লেশন হয় যা থেকে বুঝা যায় টিকা কাজ করছে,  নুরগিতে এটি ৫-৭ দিন পর আর টার্কিতে ৮-১০দিন দেখা যায়।

১০-১৪ দিন পর প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়।

একবার আক্রান্ত হলে আজীবন ইমোনিটি থাকে(হিউমোরাল এবং সেল মেডিয়েট)

বায়োসিকিউরিটি মেনে চলতে হবে।

টিকার কার্যকারিতা ৭০-৮০ %।

এই টিকা ক্রস প্রটেকশন দেয় মানে এই স্ট্রেইনের টিকা অন্য স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

অসুস্থ মুরগিকে কালিং করে দিতে হবে এবং মৃত মুরগি মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

ভ্যাক্সিন কোন ভাবেই যাতে ফ্লোরে বা লিটারে না পড়ে,ভ্যাক্সিন দেয়ার পর ভায়াল মাটির নিচে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

টিকার ধরণঃ 

পিজিয়ন পক্স ভ্যাক্সিন

রিকম্বিনেট ভ্যাক্সিন রানিক্ষেত বা মেরেক্স এর সাথে

পক্স লাইভ ভ্যাক্সিন

টিস্যু কালসার ভ্যাক্সিন

এন্ডেমিক এরিয়ায় টিস্যু কালসার ভ্যাক্সিন ৫দিন,৬ সপ্তাহে  আবার রিপিড করতে হবে।

Fowl pox vaccine( Non attenuated live) টিকার কিছু খারাপ দিক আছে যেমন টিকা নিজেই পক্স নিয়ে আসতে পারে

Fowl pox vaccine(  attenuated live) এটা ১দিন বয়সে ও দেয়া যায়।তাছাড়া মেরেক্সের সাথ  দেয়া হয়।

Fowl pox and pigeon pox vaccine are not cross protective.

পিজন পক্স ভ্যাক্সিন মুরগি,পিজন এবং টার্কিতে দেয়া যায় কিন্তু ফাউল পক্স পিজনকে দেয়া যায় না।

পিজন পক্স ভ্যাক্সিন ১দিন বয়সে ও দেয়া যায়,২য় ভ্যাক্সিন ৪ সপ্তাহে।(Non attenuated live vaccine.)

Fowl pox vaccine টার্কিতে দেয়া যায়।

 

১১।গাম্বোরু

প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রনঃ

৪টি বিষয় খেয়াল করতে হয়

ক।ব্রিডারে সঠিক তথ্য(৬-৮ সপ্তাহে লাইভ ও ১৭-১৮ সপ্তাহে কিল্ড এর পর ৪-৫ মাস পর আইবিডি +রিও+এন ডি +আইবি টিকা দিতে হবে)

খ।বায়োসিকিউরিটি

গ।ব্রয়লারে সঠিক টিকাদান কর্মসূচী ও ভ্যাক্সিন কোম্পানীর নির্দেশনা

ঘ।ম্যাটার্নাল এন্টিবডি ও ফিল্ডে ভাইরাসের স্ট্রেইন

ভ্যাক্সিন ফেইলারের অন্যতম কারণ ভাইরাসের এন্টিজেনিক ভেরিয়েশন

ক ।ব্রিডারে টিকা

ব্রিডারে যদি সঠিক টিকা সিডিউল মেনে চলা হয় তাহলে মাতার শরীরের উচ্চ মাত্রায় এন্টিবডি তৈরি যাকে ম্যাটারনাল এন্টিবডি বলে তা ভাল থাকবে এবং বাচ্চাতে তা বজায় থাকবে।ম্যাটারনাল এন্টিবডির হাফ লাইফ ৪দিন যা ২১ দিনে শেষ হয়ে যায়।টাইটার উঠতে ৪-৫দিন লাগে।

ধরি ৩দিন বয়সে টাইটার পাওয়া গেল ১২০০০ তাহলে ৪দিনে অর্ধেক হলে ৩+৪ঃ৭দিনে হবে ৬০০০।

আবার ৪দিন পর মানে ৪+৭ঃ১১দিনে টাইটার হবে ৩০০০,১১+৪ঃ১৫দিনে হবে ১৫০০,১৯দিনে হবে ৭৫০।

আর ভ্যক্সিন দেয়ার উপযুক্ত সময় হলো যখন টাইটার ৭৫০-১০০০ হবে।্তবে ইন্টার্মেডিয়েট প্লাসের ক্ষেত্রে ম্যাট্রার্নাল এন্টিবডি কিছু থাকলেও সমস্যা হয় না কিন্তু ইন্টার্মেডিয়েট ভ্যাক্সিন এন্টিবডি থাকা অবস্থায় দেয়া যাবে না যদি কোম্পানির নির্দেশনা না থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে তার আগে শেষ হয়ে যায় যদি ম্যাটারনাল এন্টিবডি কম হয়।

রেপিড টেস্ট করেও টিকা দেয়া যায় ১ম টিকা দেয়ার ৫দিন পর আবার ২য় টিকা দেয়ার ৫দিন টেস্ট করতে হবে যদি টেস্টে পজিটিভ আসে তাহলে আবার টিকা দিতে হবে।আর যদি নেগেটিভ আসে তাহলে বুঝতে হবে গাম্বোরু হবে না মানে টিকা কাজ করেছে।

সঠিক পদ্ধতিঃ

যদি ম্যাটার্নাল এন্টিবডি জানা থাকে তাহলে এন্টিবডি হিসাব করে দিতে হবে ইন্টারমেডিয়েট ভ্যাক্সিন

আর যদি ম্যাটার্নাল এন্টিবডি জানা না থাকে তাহলে দিতে হবে ইন্টার্মেডিয়েট প্লাস ভ্যাক্সিন তবে সব সময় এই টিকা দিলে এলাকায় আই বি ডির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।তাই বাচ্চা কোম্পানি থেকে জানতে হবে বা বাচ্চা কোম্পানীকে নিজ দায়িত্বে জানাতে হবে তাদের বাচ্চায় ম্যাটার্নাল এন্টিবডি কত আছে।

জানা না থাকলে যদি ইন্টারমেডিয়েট ভ্যাক্সিন দেয়া হয় তাহলে ম্যাটারনাল এন্টিবডি নিউট্রালাইজ হয়ে গাম্বোরু হয়ে যাবে।

হট ভ্যাক্সিন গুলো ম্যাটারনাল এন্টিবডি জানা না থাকলে দেয়া যাবে তবে এই ভ্যাক্সিনের কারণে অনেক স্টেস পড়ে,বার্সা ছোট হয়ে যায়।ইমোনিটি কমে যায়।অন্যান্য ডিজিজ চলে আ্সতে পারে।

খ।বায়োসিকিউরিটিঃ

৩৫ দিন সেডের ভিতর বাহিরের কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা,

একাধিক সেড থাকলে আলাদা আলাদা জুতা এবং পোশাক রাখতে হবে।

ফুটবাথ ব্যবহার করতে হবে।

এক সেড থেকে অন্য সেডে যাওয়া যাবেনা।

lesser meal worm(গোবরের পোকা,মশা ও ইদুর দূরে রাখতে হবে।

বাচ্চা উঠানোর আগে সেড পরিস্কার,জীবাণুমুক্ত এবং ফিউমিগেশন করতে হবে।.

০.2-০.৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড বা আয়োডিন দ্রবন ব্যবহার করতে হবে।

মুরগির খাবার ও পানির পাত্র ৫% ফর্মালিন দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।মেঝে,দেয়াল এবং খাচা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।

সবগুলো বিষয় কমার্শিয়াল ফার্মে মেনে চলা সম্বল না তাই ত সমস্যা লেগেই থাকে তবে ব্রিডার ফার্মে অনেকেই  মেনে চলে।

গ।ব্রয়লারের ক্ষেত্রেঃ(এম ডি এ )( ম্যাটারনাল এন্টিবডি)

ম্যাটার্নাল এন্টিবডি হলো ইয়ক স্যাকের মাধ্যমে বাচ্চাতে যে এন্টবডি স্থানান্তরিত হয়।এই ম্যাটার্নাল এন্টিবড প্যাসিভ ইমোনিটি তৈরি করে ফলে ফ্লক আক্রান্ত হবার সম্বাবনা কম  থাকে।এই ম্যাটার্নাল এন্টিবডি ইন্টারফেরেন্স তৈরি করে ফলে প্রয়োগকৃত ভ্যাক্সিন ভাইরাস সহজে কাজ করতে পারেনা যদি উচ্চমাত্রায় ম্যাটার্নাল এন্টিবডি থাকে।

ম্যাটার্নাল এন্টিবডি থাকা অবস্থায় টিকা দিলে গাম্বোরো হবার সম্বাবনা বেড়ে যাবে।

ম্যাটার্নাল এন্টিবডি এবং হাফ  লাইফঃ

৩দিন বয়সে বাচ্চার ম্যাটার্নাল এন্টিবডি মাপা উচিত,এই সময় সর্বোচ্চ মাত্রায়  ম্যাটার্নাল এন্টিবডি পাওয়া যায়।এই সময় যে ম্যাটার্নাল এন্টিবডি পাওয়া যায় তার হাফ লাইফ ৪ দিন (ব্রয়লার) লেয়ারের ৪.৫ দিন।

তাই ৪-৫দিন পর পর হাফ লাইফ অর্ধেক হয়।যদি একটি ফ্লকের এন্টিবডির হাফ লাইফ গড়  ৮৫০০ ইউনিট  এবং ৪দিন পর পর অর্ধেক হবে এবং এক সময় শেষ হয়ে যাবে।ফলে ফিল্ড ভাইরাস দ্বারা ফ্লক আক্রান্ত হবে।

ম্যাটারনাল এন্টিবডি দেখে টিকার সিডিউল তৈরি করা উচিত কিন্তু আমাদের দেশে এখন তা তেমন  প্রচলন হয় নি।

তাছাড়া একেক কোম্পানির টিকার সিডিউল একেক রকম এবং বাচ্চার মান ও বিভিন্ন রকম,ইউনিফর্মিটিও ভাল না ।

ভি ভি আই বি ডি হলে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস দেয়া উচিত।

যেসব বাচ্চার উচ্চ এবং সুষম এম ডি এ সেসব ক্ষেত্রে ১৪-১৬ দিনে ১টি টিকা দিলেই হবে।

যেসব বাচ্চার এম ডি এ সুষম না সে ক্ষেত্রে ২টি টিকা দিতে হবে।

১মটি ৭-১০ দিনে(ইন্টারমেডিয়েট,হেটারোজেনেসিটি ঠিক করার জন্য)

২য়টি ১৪-১৭ দিনে ( ইন্টারমেডিয়েট প্লাস,সব মুরগির প্রটেকশন দেয়ার জন্য)

গাম্বোরু হবার ৫-৭দিন আগে টিকা দিতে হবে।যদি ১৮দিনে গাম্বোরু হয় তাহলে টিকা দিতে হবে ১২-১৩দিনে।

টিকা বিভিন্ন ধরণের হয় যেমন

মাইল্ড টিকা ঃএই টিকা এখন চলে না।

ইন্টারমেডিয়েট( ডি ৭৮)

ইন্টারমেডিয়েট প্লাস( ২২৮,আই বি ডি ব্লেন,আই বি ডি এক্সট্রিম )

হট টিকা(উইন্টার ফিল্ড) আই বি ডি এল,ট্রান্স মিউন আই বি ডি,বার্সাপ্লেক্স)

লেয়ারের ক্ষেত্রে

১ম অপশন

উন্নত বাচ্চার ক্ষেত্রে ১৯ দিনে,ইন্টারমেডিয়েট প্লাস।

নিম্ন মানের বাচ্চার ক্ষেত্রে (বিশেষ করে সোনালী) ৬-৭ দিনে ইন্টারমেডিয়েট এবং ১৩-১৪ দিনে ২য় টিকা,ইন্টারমেডিয়েট প্লাস।

অনেকে ইন্টার মেডিয়েটের সাথে কিল্ড দেয়,ইন্টারমেডিয়েট  প্লাস কে বাদ দেয়া হয় কিছু খারাপ প্রভাবের জন্য যাতে ভ্যাক্সিনের ধকল কমানো যায়।

২য় অপশনঃ

উচ্চ মানের বাচ্চার ক্ষেত্রে

৫-৭ দিনে ১ম টিকা ইন্টারমেডিয়েট  সাথে কিল্ড

২২-২৮ দিনে ২য় টিকা

নিম্নমানের বাচ্চার ক্ষেত্রে

৫-৭ দিনে ১ম টিকা ইন্টারমেডিয়েট সাথে কিল্ড

১৮-২৪ দিনে ২য় টিকা

ভ্যাক্সিন সিডিউল কেমন হবে তা নির্ভর এলাকার রোগের প্রাদুর্ভাব,রোগের তীব্রতা,ভাইরাসের স্ট্রেইন এবং ব্রিডারের টিকা,বাচ্চার মান,কোম্পানীর ভ্যাক্সিন টেকনোলজি ও টাইটারের উপর।

গাম্বোরু টিকা পানিতে/মুখে দেয়া ভাল কারণ তার টার্গেট  অংগ হল জি আই ট্রাকের লিম্ফয়েড।

 

১২।কলেরা

প্রিভেন্টশন এবং কন্টোলঃ
ক।বায়োসিকিউরিটি এবং হাইজিন
সকল ক্যারিয়ার মানে পাখি এবং মানুষ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
মৃত বা অসুস্ত মুরগি কুকুর,বিড়াল শিয়াল থেকে  দূরে রাখতে হবে।
ফার্ম এলাকা পরিস্কার রাখতে হবে যাতে ইদুর বা অন্য কোন প্রাণি যাতে না আসে।
প্রতিদিন লাইট বন্ধ করার আগে খাবার ও পানির পাত্র পরিস্কার করতে হবে যাতে খাবার খাওয়ার জন্য কেউ না আসে।
মুরগি মারা গেলে সাথে সাথে পুতে ফেলতে হবে।
পরিস্কার খাবার ও পানি দিতে হবে।
খ।টিকাঃ
লাইভ এবং কিল্ড ২ ধরনের পাওয়া যায়।
এডভান্সের টিকা
১ম টিকা  ৯ সপ্তাহে  কিল্ড  মাংসে বা চামড়ায় .৫ মিলি
  ব্রুস্টার ১৪ সপ্তাহে   কিল্ড ।
লাইভ টিকা ৬ সপ্তাহের দিকে দিতে হয়

৩।আমাশয়

প্রতিরোধ এবং দমন##

।উপযুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা

বয়স্ক এবং বাচ্চা মুরগি আলাদা ভাবে পালা।

অল্প ওসিস্ট থাকলে পাখি খেয়ে নিলে ইমোনিটি তৈরি হয়।

লিটার সব সময় শুকনা রাখা,খাদ্য এবং পানির পাত্র পিঠ ও চোখ বরাবর রাখা।

পানির পাত্রের নিচে পানি পড়ে লিটার ভিজে যায় যা কমন সমস্যা।

টিনের বাড়তি অংশ প্রায় সব ফার্মেই ২ ফুটের কম এতে বৃস্টির পানি ভিতরে ঢুকে লিটার ভিজে যায়।টিনের ছাউনির বাড়তি অংশ ৩ ফুট হওয়া উচিত।

বাহিরের জীবানূ যাতে ভিতরে না যায়,মোট কথা বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা।

বর্ষাকালে লিটারে লাইম পাঊডার দেয়া উচিত।

লিটারের খরচের টাকা বাচাতে গিয়ে অনেকে নতুন/শুকনা লিটার দেয় না।ভাবে আর কয়েকদিন পর ত খাচায় উঠিয়ে দিবো ।এভাবে দেখতে দেখতে আমাশয় চলে আসে।

ইদুর,মাইস,ক্যারিয়ার।আর্থ ওয়ার্ম,ফ্লি,তেলাপোকা

বিভিন্ন বয়সের মুরগি এক সাথে পালন না করা

মুরগি যদি ইউনিফর্মনা হয় তাহলে সব মুরগি এক সাথে আক্রান্ত হয় না ফলে অনেক দিন ধরে কক্সির সমস্যা থেকে যায়।

কোন কারণ মুরগি অসুস্থ হলে খাবার কম খায় ফলে কম কক্সিডিওস্ট্যাট খায়।এতে আমাশয় হবার সুযোগ থাকে।।

পানির পাত্র থেকে যাতে পানি পড়ে লিটার না ভিজে।

ব্রয়লার ফিডে ১মদিন থেকেই এন্টিকক্সিডিওসিস্ট ব্যবহার করে যাতে সাইজোগনি  হতে না পারে।

ফিড যদি ভাল মানের না হয়।

সেডের ভিতরে আলাদা জুতা থাকা উচিত।বাহিরের জুতা নিয়ে ভিতরে গেলে আমাশয় হতে পারে।

লিটার উল্টানোর পরে খাবার ও পানি দিতে হবে। খাবার ও পানি দেয়ার পরে লিটার উল্টানো হলে খাবার ও পানিতে লিটার গিয়ে কক্সি হতে পারে।

এন্টারাইটাইস হয়ে যাতে লিটার না ভিজে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পুরান লিটারের সাথে নতুন লিটার মিক্স করে ছড়িয়ে দিতে হবে।

ভাল করে জীবনূমুক্ত করে বাচ্চা নিতে হবে।

ইদুর,তেলাপোকা,মাছি,আর্থওয়াম যাতে না থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

।কক্সিডিওষ্টেট দ্বারা রোগ প্রতিরোধঃ

খাদ্যের সাথে দেয়া হয়,যেমন ডাইক্লাজুরিল,সেলিনোমাইসিন,নারাসিন,মনেনসিন,মাদুরামাইসিন।এগুলো বারবার এবং এক নাগারে ব্যবহার করলে  রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায় তাই রোটেশন বা সাটল প্রোগ্রাম মেনে চলা হয়।

ক।রোটেশনঃএক্ষেত্রে ৩মাস,৬মাস বা বাৎসরিক অন্তর ওষধ পালাক্রমে পরিবর্তন করা হয়।এটা মূলত কক্সিডিওসিস এর চ্যালেঞ্জ,মৌসুমি রোগের প্রভাব এবং খামারগুলোর ব্যবস্থাপনা ও মুরগির ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।বছরকে ৪টা ভাগে ভাগ করে কক্সিডিওস্ট্যাস্ট দেয়া হয়।

ফিডের টাইপের উপর নির্ভর করে না।

১ম থেকে ৩য় মাসে কেমিকেল(সিন্থেটিক) ও আয়োনোফর,৪থ -৬ম মাসে আয়োনোফর,৭-৯ মাসে কেমিকেল এবং আয়োনোফর,১০-১২ তম মাসে আয়োনোফর।

খ।শাটল প্রোগ্রামঃ

মুরগির বয়সের  উপর ভিত্তি করে দেয়া হয়।

একই ফ্লকে দুটি ভিন্ন ধরনের কক্সিডিওস্টেট ব্যবহার করা হয় যেমন স্টাটার এবং গ্রোয়ার দুটি হলে স্টাটারে কেমিকেল এবং গ্রোয়ারে আয়োনোফর

৩ টি ধাপ হলে স্টাটারে কেমিকেল,গ্রোয়ারে আয়োনোফর,ফিনিশারে কেমিকেল।

#১ম সিন্থেটিক তারপর আয়োনোফর

১ম আয়োনোফোর তারপর সিন্থেটিক

আয়োনোফোর X  আয়োনোফোর Y

# সিন্থেটিক X সিন্থেটিক Y

গ।সরসরি বা সম্পূর্ণ  (Straight or Full)

এতে একটি এন্টিকক্সিডিয়াল ব্যবহার করা হয়।এতে রেজিস্ট্যান্ট বেশি হয়।

ঘঃ টিকা

৩ধরণের হয়

কিল্ড ব্রিডারে দেয়া হয় যাতে বাচ্চাতে এন্টিবডি আসে।

লাইভ ননএটিনয়েট,এতে ডিজব্যক্টেরিওসিস ও এন্টারাইটিস হয়।

লাইভ এটিনয়েটেড,ডিজব্যাক্টেরিওসিস হয়।(Coccivac D,Livacox Q)

১-৪দিন বয়সে দেয়া হয়(৫-৯ দিনেও দেয়া যায় কোম্পানীর সিডিউল অনুযায়ী),পানিতে বা স্প্রে বা মুখে ফোটা বা জেল ড্রপ লেট।

৪-৭দিন পর ওস্টিট বের হয়ে আসে,বাচ্চা এটা আবার খায় ফলে ব্রুস্টার হয়ে যায়.২ সপ্তাহ পর টাইটার উঠে।

 

১৪।এ আই

প্রতিরোধঃ

বন্য পাখি ও হাস থেকে দূরে থাকতে হবে।

বাহিরের লোকজনের চলাচল বন্ধ করতে হবে।

ফার্মে ঢুকার আগে হাত ধুতে হবে এবং রীতিমত স্প্রে করতে হবে পাখির উপর ও অন্য সকল জায়গায়।

ছাড়া অবস্থায় বাহিরে দেশি মুরগি পালা যাবেনা।

একই জায়গায় হাস ও শুকর পালা যাবেনা।

দেশি হাস,মুরগি ও কবুতর রাখা যাবেনা।

যেসব বন্য পাখি খাচায় পালা হয় সেখানে যাওয়া যাবেনা।

কোন সমস্যা হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

যেসব দেশে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে সেসব দেশ থেকে গেম বার্ড,পোল্ট্রি প্রডাক্ট ,ব্রিডার ও বন্য পাখি যাতে না আসে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

ফার্ম পরিস্কার রাখতে হবে।

লোকাল ফার্ম,লাইভ পোল্ট্রি মার্কেট থেকে দূরে থাকতে হবে।

মুরগির বিষ্টা যেখানে সেখানে ফেলা বা রাখা যাবেনা।

শীতকালে  নিউট্রিল্যাক,বিটামিউন,লাইসোভিট,ই সেল,এডি৩ই,জিংক,টক্সিন বাইন্ডার ,সি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে যাতে ইমোনিটি ভাল থাকে।

বায়োসিকিউরিটি ভাল রাখতে হবে।

নোটঃভাইরুস্নিপ(Virusnip) দিয়ে ৩-৫ দিন পর পর মুরগির উপর এবং ফার্মের সকল জায়গায় স্প্রে করলে সহজে মুক্ত থাকা যাবে

ভাইরুসিডঃ দিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে  ১ দিন পর পর মুরগির উপর এবং ফার্মের সকল জায়গায়(শীতের সময়)

টিকা শিডিউলঃ

ভ্যাক্সিন দেয়ার মূল উদ্দেশ্য মুরগির প্রডাকশন যাতে না কমে,জীবাণুর লোড কমানো।

ইমার্জেন্সি ভ্যাক্সিন সিডিউল ঃ

যে কোন বয়সে তবে ৪-৬ সপ্তাহ পর ব্রুস্টার দিতে হবে।

প্রাইমারী ভ্যাক্সিন ৩ সপ্তাহের আগে হলে ২য় ব্রুস্টার দিতে হবে  ১৬-১৮ সপ্তাহ।

যে এলাকায় এ আই এর রিক্স বেশি সেক্ষেত্রে

এক দিনের বাচ্চায় 0.২৫ এম এল করে,পরে ২টি ব্রুস্টার ৪-৬ সপ্তাহ এবং ১৬-১৮ সপ্তাহ

৪০-৫০ সপ্তাহের দিকে আরেক টি দিতে হবে।

কম রিক্সের এলাকায় ৪ সপ্তাহে ০.5 এম এল করে প্রাইমারী ভ্যাক্সিন ,১৬-১৮ সপ্তাহে ব্রুস্টার।

ভ্যাক্সিন সাব কাট বা আই এম

অথবা

এইচ ৫ এন ১ স্টেইন

২ সপ্তাহ  ০.25 ml

৮ সপ্তাহ

১৬ সপ্তাহ

০.৫ এম এল রানের মাংসে বা ঘাড়ের চামড়ায় ইনজেকশন

স্টেইনে্র সাথে মিলে গেলে কাজ করবে।

অনেক কোম্পানী ১দিনের বাচ্চাতে টিকা দিয়ে দেয়।দিলে আর লাগবেনা।

ইন্দোনেশিয়ার টিকার সিডিউল যা দিয়ে তারা  পোল্ট্রি সেক্টরকে কন্টোলে রেখেছে।

বয়স              H5N1       H9N2

২-৫ সপ্তাহ   দিতে হবে     লাগবে না

৮-১২ সপ্তাহ    দিতে হবে   দিতে হবে

১৬-২০ সপ্তা  দিতে হবে    দিতে হবে

৩০-৩৪ সপ্তাহে  দিতে  হবে   দিতে হবে

ভ্যাক্সিনের কম্বিনেশন  

H5N2

H5+ND =  H5N2

H7N1

H7N7

H9N2

H9N2+ND=H9N2

আমাদের দেশে এ সি আই .৯ ) ৫ ভ্যাক্সিন,এডভান্স ৫ভ্যাক্সিন,এফ এন এফ ৯ ) ৫ ভ্যাক্সিন মার্কেটিং করে।

এ আই ভ্যাক্সিন যে ভ্যাক্সিনের সাথে কম্বাইন্ড করা হয়

রানিক্ষেত

পক্স

এইচ ভি টি

 

৫।আই বি এইচ

প্রতিরোধঃ

বায়োসিকিউরিটি উন্নত করতে হবে.

সুষম খাবার দিতে হবে.

পুরাতন লিটার ব্যবহার করা যাবে না।

লিটার যাতে না ভিজে বিশেষ করে শীতকালে।

ভুট্রার পরিবর্তে মিলেট দিতে হবে,প্রোটিন কমাতে হবে।

গম বা মিলেট বা চাল দিতে হবে,৩৬ ঘন্টা খাবার বন্ধ রাখতে হবে।

১৫দিন ফার্ম রেস্টে রাখতে হবে।

আয়োডিন জাতীয় জীবাণূ নাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে ।

ইমো্নোসাপ্রেশন হয় এমন রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে যেমন  আই বি ডি,মাইকোপ্লাজমোসিস,চিকেন এনিমিয়া ভাইরাস,সি আর ডি ও আমাশয়।

টিকা ১-২ দিনে তবে টিকা ভাল কাজ করেনা।

এটি সেলফ লিমিটিং রোগ মানে ৬-৭ দিনে ভাল হয়ে যায়।

স্প্রে করতে হবে.

টিকাঃ

২য় দিন

৭ম দিন

বাংলাদেশে ব্যবহার হয় না

অটোজেনাস ভ্যক্সিনঃ

আক্রাক্ত ব্রয়লারের লিভার ৮০গ্রাম

জেন্টামাইসিন ৬০ এম এল

নরমাল স্যালাইন  ১৮০ এম এল,ফরমালিন ২এম এল

সব গুলো মিক্স করে  ৫ মিনিট গ্রাইন্ডিং করতে হবে

পরে ফরমালিন এড করে আবার গ্রাইন্ডিং করতে হবে।

তারপর স্যালাইন যোগ করে ১মিনিট মিক্স করতে হবে।।

পরে ১-২ফোটা ফরমালিন  যোগ করে এতে জেন্টামাইসিন দিয়ে ১মিনিট মিক্স করতে হবে।

৫-৬ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১২ ঘন্টা ফ্রিজে রাখার পর ০.২ মিলি করে মাংসে ইঞ্জেকশন দিতে হবে।

 

১৬।এসাইটিস

প্রতিরোধ

১.পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে
২.বা‍য়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে
৩.এমোনিয়া মুক্ত রাখতে হবে
৪.হ্যাচিং,ব্রুডিং এবং পরিবহনের সময় যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে.
৫.খাদ্যে লবনের পরিমান সঠিক রাখতে হবে.(০.৩-০.৫)
৬.লিটারের আর্দ্রতা  ভাল রাখতে হবে
৭.শ্বাস তান্ত্রিক রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে,
৮.ভিটামিন -ই -খাওয়ানো যেতে পারে.

 

১৭।মাইকোপ্লাজমোসিস

প্রতিরোধঃ

যেভাবে ছড়ায় সেগুলোকে রোধ করতে হবে।

টিকা ৩ টি স্ট্রেইন আছে,এগুলো হল এফ স্ট্রেইন,৬/৮৫স্ট্রেইন,টি এস ১১ স্ট্রেইন।

৬/৮৫ স্ট্রেইন ৬ সপ্তাহ বা বেশি  মুরগিতে সুক্ষ  স্প্রে এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যায়,এ টিকা লাইভ রানিক্ষেত,ব্রংকাইটিস এবং ল্যারিংগোট্রাইকিস টিকা প্রদান করার ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োগ করা যাবেনা।

স্ট্রেইন টি এস ১১ হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া যায় যা মাইনাস ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করতে।

এটি ৬-১৪ সপ্তাহের পুলেটের চোখে ফোটার মাধ্যমে দেয়া হয়।এটি রানিক্ষেত ,ব্রংকাইটিস এবং ল্যারিংগোটাইটিস টিকার সাথে দেয়া যায়,এই টিকা দেয়ার ২ সপ্তাহ আগে এবং ৪ সপ্তাহ পর কোন এন্টিবায়োটিক যেমন টেট্রাসাইক্লিন,টাইলোসিন,লিনকোমাইসিন,স্পেটিনোমাইসিন এবং ক্লোইনোলোন গ্রোপ দেয়া যাবেনা।

খামার এমোনিয়া মুক্ত রাখতে হবে।

টক্সিন মুক্ত খাদ্য ব্যবহার করতে হবে।

প্রোবায়োটিক মাঝে মাঝে খাওয়াতে হবে

হ্যাচিং ডিম ১০-৩০ মিনিট টাইলোসিন টারট্রেট দ্রবনের এর মধ্যে রাখলে মাইকোপ্লাজমা মুক্ত হয়।

সি টি সি ২২০ গ্রাম প্রতি টন খাদ্যে খাওয়ালে ডিমের মাধ্যমে ছড়ায়না।

হ্যাচিং ডিম জেন্টামাইসিন দ্রবনে ২-৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১০-৩০ মিনিট রেখে দিলে জীবানূ দূর হয়।

বায়োসিকিউরিটি মেনে চলতে হবে।

 

১৮।ব্রুডার নিউমোনিয়া

প্রতিরোধঃ

১ম ৭-১০ দিন তুষ ব্যবহার করা বা তাদের মিক্সার ব্যবহার করা।

কাঠের গুড়া ব্যবহার  করলে তাতে তুতে এবং নিম পাতা  গুড়া ব্যবহার করা।

বেশি শুকনা হলে জীবানূনাশক বা পানি দিয়ে স্প্রে করা এবং ভিজা হলে শুকিয়ে নেয়া।

ফ্লোর জীবানূ মুক্ত রাখা,বাচ্চা উঠার আগে ৫% কপার সালফেট দিয়ে সেডে স্প্রে করতে হবে এবং শুকাতে হবে।

হ্যাচারীর ইনকিউবেটর ও হ্যাচার এবং অন্য সকল কিছু জীবানূমুক্ত রাখা।

বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আক্রান্ত হলে লিটার বদলাতে হবে।

 

৯।গাউট

প্রতিরোধ :

ক রোগ নিয়ন্ত্রণ

ব্রংকাইটিসের টিকা দিতে হবে(ব্রিডার এবং বানিজ্যিক ব্রয়লার এবং লেয়ার)।

ব্রিডারে এভিয়ান  নেফ্রাইটিস ও এস্টোভাইরাএসের টিকা দিতে হবে।

নিরাপদ এন্টিবায়োটিক দিতে হবে।

মাইকোটক্সিন থেকে পোল্ট্র্যিকে মুক্ত রাখতে হবে।

ভাল টক্সিন বাইন্ডার ব্যবহার করতে হবে।

খ. হ্যাচারী এবং ফার্ম ব্যবস্থাপনা

সঠিক তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা ।
সঠিক স্টোরেজ কন্ডিশন এবং সঠিক ভাবে বাচ্চা হস্তান্তর,
বাচ্চা বেশিক্ষন হ্যাচারীতে রাখা যাবেনা এবং অভুক্ত ও পানি ছাড়া রাখা যাবেনা।
ভাল ভ্যান্টিলেশন এবং ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা.

গ.খাবার এবং পানি

সুষম খাবার।

সোডিয়াম.০.৫% বেশি হবেনা।

পানিতে সোডিয়াম কত আছে জানতে হবে
বেশি থাকলে খাবারে কমাতে হবে(সোডিয়াম বাই কারবোনেট),

ইলেক্টোলাইট এবং গুড় দিতে হবে,

ভাংগা ভুট্টা খাওয়ানো যেতে পারে ৪-৫ দিন,খাবারের ৫০% বা ১০০%

খাবারে যাতে ইউরিয়া না মিশ্রিত হয়।

পর্যাপ্ত পানির পাত্র এবং উচ্চতা মুরগির চোখ বরাবর হতে হবে,

ইউরিন এসিডিফায়ার (kcl,NH3CL,NH4SO4,vinegar) দেয়া যেতে পারে।

মেথিওনিন হাড্রোজি এনালগ,ডাইইউরেটিক এবং ককোনাট পানি দেয়া যায়।

সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ১গ্রাম পার লিটার কিন্তু পানিশুন্যতা হলে দেয়া যাবেনা।

ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকস,জীবানূনাশক,কেমিকেলস ও এন্টিকক্সিডিয়াল বেশি  মাত্রায় দেয়া যাবে না।

মাইকোটক্সিন

অক্রাটক্সিন,ওস্পোরিন

১% অক্রাটক্সিন বাড়লে ২০% এসিড বেড়ে যায়

২০।আই বি

প্রতিরোধঃ

এটি দমন করা কঠিন কারণ অনেক স্ট্রেইন আছে এবং তাদের মধ্যে মিউটেশন ঘটে এবং ক্রস প্রটেকশন দেয় না.

১ম টিকা চোখে এবং দ্বিতীয় টিকা স্প্রে করা ভাল কিন্তু বাংলাদেশে তেমন  প্রচলিত নয় সি পি তে করে।
প্রথম টিকা লো পেথোজেনিক এবং দ্বিতীয় টিকা হাইপেথোজেনিক স্ট্রেইন দিয়ে দেয়া উচিত.

প্রাথমিক এবং বুস্টার ভ্যাক্সিনেশনের জন্য একই টিকা ব্যবহার করা সঠিক নয় কা্রণ এতে পর্যাপ্ত পরিমানে এন্টিজেনের বিভিন্নতা না থাকায় মাঠ পর্যায়ে উচ্চ মাত্রায় ক্রস প্রটেকশন প্রদান করতে সক্ষম হবেনা.

বায়োসিকিউরিটি,পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং জীবানূনাশক ব্যবস্থা ভাল হলে ভ্যাক্সিনেশন কর্ম সূচি কার্যকর হয়.

১ম দিন – ৫ম দিন আই বি + এনডি লাইভ (১দিন বয়সেও দেয়া যায় যদি ম্যাটারনাল ইমোনিটি কম থাকে)

রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হলে আই বি +এন ডির( এম এ ৫ ক্লোন ৩০ সাথে ৪/৯১ বা বি আই এল এর সাথে আই বার্ড মিক্স করে চোখে দেয়া যায়)

বা

১০-১২দিন আই বি ভ্যারিয়েন্ট(আই বি ৮৮)

৫৫-৫৬ তম দিন আই বি + এনডি লাইভ

১৬-১৮ সপ্তাহে আই বি + এনডি + ই ডি এস.কিল্ড

 

০।রানিক্ষেত

প্রতিরোধ

টিকা

বাচ্চাতে ক্লোন,বি১ হিচনার বা এফ স্ট্রেইন দেয়া উচিত।পরে ক্লোন ও লাসোটা পর্যায়ক্রমিকভাবে দেয়া উচিত এতে সব স্টেইন কভার করবে।

১-৫দিনে আই বি + এন ডি

১৭-২০দিনে আই বি + এন ডি

২১-২৫দিনে এন ডি কিল্ড

৯-১০ সপ্তাহে এন ডি কিল্ড

১৬-১৭ সপ্তাহে আই বি + এন ডি + ই ডি এস (ই ডি এসের আগে এন ডি লাইভ দেয়া যেতে পারে)

বায়োসিকিউরিটি

ব্যবস্থাপনা

সঠিকভাবে সঠিক সময়ে টিকা দেয়া এবং এইচ আই টেস্টের মাধ্যমে টাইটার পরীক্ষা করা.

বায়োসিকিউরিটি উন্নত করা।

দেশি মুরগি,হাঁস ,কবুতর,কুকুর,বিড়াল গরু ছাগল যাতে ফার্মে না ঢুকে।

স্প্রে ছাড়া ভিতরে যাওয়া যাবেনা।

ফূটবাথ মেনে ভিতরে যেতে হবে।

কৃমিনাশক দেয়া.

মাঝে মাঝে  টেস্ট করে সালমোনেলা ও মাইকোপ্লাজমার ডোজ করা.

টিকা বিভিন্ন ধরনের হয়

লাইভ লেন্টোজেনিকঃ

লাইভ টিকা গুলো মেইনলি লেন্টোজেনিক

বি ১ হিচনার

লাসোটা

ক্লোন

ভি স্টেইন

এফ স্টেইন

ক্লোন ভ্যাক্সিন যা লাসোটা থেকে হয়।ক্লোন টিকার প্যাথোজেনেসিটি কম থাকে,স্টেস কম পড়ে তাই বাচ্চাতে বেশি ব্যবহার হয়।বাচ্চাতে এফ স্ট্রেইন,বি১ হিচনার ও ক্লোন দেয়া হয়।

লাইভ মেসোজেনিক

রোয়াকিন(Roakin)

কোমারভ(Komarov)

মুক্তেশর(mukteswar)

এইচ স্টেইন

কিল্ড

লাসোটা

মুক্তেশর

কিমম্বার

লাইভ না কিল্ড কোন টা ভালঃ

শুধু লাইভ করলে একটি নির্দিষ্ট  সময় পর টাইটার কমে যায় ফলে ডিম কমে যায়

আর লাইভ এবং কিল্ড এক সাথে দিলে টাইটারের ইউনিফ্রমিটি এবং প্রডাকশন ভাল থাকে।

কিভাবে ইউনিফ্রমিটি বাড়ানো যায়ঃ

টিকার আগের দিন,পরের দিন ও টিকার দিন ভিটামিন ই,সি ও এমাইনো এসিড দিতে হয়.

সম্বব হলে টিকার ৩ দিন আগে ও ৩দিন পর পর্যন্ত প্রোটিন,ভিটামিন মিনারেলস  এর মাত্রা ১০-১৫% বাড়িয়ে দিলে ভাল হয়.

দিনের ঠান্ড সময় টিকা দিতে হবে ও যখন সূর্যের আলো যাতে  সরাসরি না পড়ে।

টিকার দেয়ার আগে কৃমিবাশক দেয়া উচিত.

টিকা দেয়ার ৫ দিন আগে এন্টিবায়োটিক দেয়া যেমন কসুমিক্স প্লাস,সি টি সি (কেপ্টর) ও টিয়ামোলিন( টিয়াভেট বা ডেনাগাট)

টিকা দেয়ার ৭ দিন পূর্বে ও ৭দিন পর খাবারে বা পানিতে টক্সিন বাইন্ডার ও লিভারটনিক দেয়া ভাল.

বায়োসিকিউরিটি বাড়াতে হবে.

যে কারণে রানিক্ষেতের প্রতিরোধ  ক্ষমতা কমেঃ

পুস্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে.

খাবারে টক্সিন বাইন্ডার ব্যবহার না করলে.

২ টি লাইভ টিকা অন্তত ৭ দিন অন্তর প্রয়োগ না  করলে.

কিল্ড টিকা না দিলে.

প্রথমে গাম্বোরুর হট টিকা দিলে.

মুরগি ঘন থাকলে.

খাবার ও পানির অভাব থাকলে.

খামারে মাইকোপ্লাজমা, আমাশয় ,করাইজা ও ই- কলাই বেশি থাকলে.

একই খামারে বাচ্চা ও বয়স্ক মুরগি পালন করলে.

টাইটার লেভেল মনিটরিং না করলে।

ভাল প্রতিরোধ ক্ষমতা  সম্পন্ন টিকা

মুক্তেশর

লাসোটা

ভি স্টেইন

হিচনার

 

২১।মেরেক্স

প্রতিরোধঃ

খামারের পরিবেশ পরিস্কার রাখতে হবে যাতে ধুলাবালি না থাকে

মাইকোপ্লাজমা,আমাশয়,মাইকোটক্সিন,গাম্বোরো এবং এনিমিয়া যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ এগুলো মেরেক্সকে আমন্ত্রন জানায়।

আক্রান্ত মুরগিকে সুস্থ মুরগি থেকে আলাদা রাখতে হবে

বয়স্ক মুরগি থেকে বাচ্চা মুরগি ৩মাস আলাদা পালতে হবে

পরিস্কার পানি দিতে হবে কারন পানিতে আমাশয়ের জীবানূ্র সাথে মেরেক্সের জীবানূ আসতে পারে,দুটিই খারাপ।

জীবনিরাপত্তা মেনে চলতে হবে।

ভাইরুস্নিপ(জীবানূনাশক) দিয়ে ৩ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

যন্ত্রপাতি এবং পালকের মাধ্যমে যাতে ছড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

টিকাঃ

সব সেল এসোসিয়েটেড ভ্যাক্সিন।

হ্যাচারীতে জিরো দিনের বাচ্চাকে দিলে আজীবন ইমোনিটি থাকে যদি সব ঠিক মত করা হয়।

বাইব্যালেন্ট।

টাইপ ১(HPRS 16))  টাইপ ৩(HVT)  কম্বিনেশন

আবার টাইপ  ২(SB1) টাইপ ৩( HVT) কম্বিনেশন

১। গতানুগতিক সেরোটাইপ ১ (রিসপেন্স),২ (এস বি ১),৩(এইচ বি টি)

২।ভাইরাস ভেক্টর রিকম্বিনেট এইচ বি টি( আই বি ডি,এন ডি,আই এল টি,এ আই)( যেখানে অন্য ভাইরাসের জিন ঢুকানো থাকে)

এইচ বি টি সেরোটাইপ ১,২ বা উভয়ের সাথে সমন্বয় করে ব্যবহার করা যায় যাতে ফ্লকে বেশি প্রতিরক্ষা দেয়া যায়।

তবে এইচ বি টির সাথে রিস্পেন্স ১ করে যে টিকা তৈরি করা হয়েছে সেটা বেশি ভাল কাজ করে যেখানে মেরেক্স বেশি হয়।

rHVT  ভ্যক্সিনের সাথে গতানুগতিক ভ্যাক্সিন দেয়া যাবে না এমন কি এন্টিবায়োটিক ও দেয়া যাবে না।

ভ্যাক্সিন প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

হ্যাচারীতে ১৮দিনে (In Ovu Route) বেশি রিক্স এলাকায় হ্যাচিং এর পর ২য় ডোজ দিলে প্যাথোজেনিক স্টেইনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

মেশানোর পর ভ্যাক্সিন গুলো শীতল রাখতে হবে এবং ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যে দিতে হবে।

মেরেক্স ভ্যক্সিন হলো কোষের unstable suspension তাই ভাল ভাবে মেশালে এবং ঝাঁকালে তলানী পড়ে না,একই মাত্রা সব নিশ্চিত হয়।।

মেরেক্স রোগ বেশি হবার কারণঃ

টিকা দেয়ার ৪-৫দিন পর টিকার ভাইরাস বাচ্চার শরীরে সংখ্যা বৃদ্ধি করে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে।

কিছু কিছু ঝুঁকি থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখতে হবে যেমন

বিভিন্ন  বয়সের বাচ্চা এবং মুরগি এক সাথে বা এক ফার্মে বা কাছাকাছি   রাখা

নতুন লিটার ব্যবহার করা বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা তানাহলে  ফিল্ড মেরেক্স ভাইরাস ও অন্যান্য ইমোনোসাপ্রেসিভ রোগ দ্বারা বাচ্চা আক্রান্ত হতে পারে।

এম ডি ভ্যক্সিনের সঠিক নির্বাচন ও প্রয়োগের মাধ্যমে মেরেক্স নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 যেসব ফ্যাক্টরের কারণে মেরেক্স হয়ে যায়

এই ভ্যাস্কিন খুব সেন্সেটিভ,সামান্য তাপমাত্রা এবং সময়ের পরিবর্তন হলে ভ্যাক্সিন কাজ করে না।

আমাদের দেশে ভ্যাক্সিন কাজ না করার মেইন কারণ ঠিক মত ভ্যাক্সিন না দেয়া এবং ভুল পদ্ধতি এবং স্ট্রেইন।

তাছাড়া হ্যাচারীতে ১৮ দিন বয়সে ডিমের মধ্যে ভ্যাক্সিন দেয়া হয় না যার ফলে ভাইরাস বাচ্চার শরীরে সহজে ঢুকে যাচ্ছে এবং মেরেক্স হচ্ছে।

১।ভূল পদ্ধতিতে টিকা সংরক্ষণ,স্থানান্তর ,প্রস্তুতি ও প্রয়োগ

২।ডোজ কম বা ডাইলুশন ভূল করা

৩।অন্য টিকার দ্বারা মেরেক্সের টিকার কার্যকারিতা কমে যায় বা নস্ট হয়।

৪।এন্টিবায়োটিক

৫।অধিক আক্রমনাত্মক স্ট্রেইন দ্বারা বাচ্চা বয়সে আক্রান্ত হওয়া।

৬।ইমোনোসাপ্রেশনঃ

৭। মেরেক্স টিকা  ১ঘন্টার মধ্যে দিতে হয় কিন্তু অনেকেই তা মেনে চলে না বা জানে না।

৮।আই বি ডি,চিকেন ইনফেশাস এনিমিয়া

৯।পরিবহ্নের সময় তাপমাত্রা বেশি বা কম

১০।ভ্যান্টিলেশন ভাল না হওয়া

১১বেশি গরম বা ঠান্ডা

১২।বেশি ঘন

১৩।খাবারের মান ভাল না হলে,মাইকোটক্সিন,এমানো এসিডের ঘাটতি।

Please follow and like us:

About admin

Avatar

Check Also

সোনালী পালন সিডিউল

শিডিউল দেয়া ঠিক না ,অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হয়।মেডিসিন গুলো এমনিতে দেয়া আছে,প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে ...

Translate »
error: Content is protected !!