পোল্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ রোগগুলো কে, কোথায় এবং কখন প্রথম আবিষ্কার করেছেন? (ঐতিহাসিক তথ্য)
পোল্ট্রি চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক বা পোল্ট্রি কনসালট্যান্টের শুধু রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা জানলেই হয় না; রোগগুলোর ইতিহাস সম্পর্কেও ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোন রোগ কখন, কোথায় এবং কার মাধ্যমে প্রথম শনাক্ত বা বর্ণনা করা হয়েছে—এসব তথ্য একজন পেশাদার চিকিৎসকের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে।
এই লেখায় পোল্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলোর আবিষ্কারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো।
পোল্ট্রির ভাইরাল রোগের আবিষ্কারের ইতিহাস
১. রানিক্ষেত (Newcastle Disease)
- ১৯২৬ সালে ইন্দোনেশিয়ায় F. C. Kraneveld প্রথম রোগটি বর্ণনা করেন।
- ১৯২৭ সালে ইংল্যান্ডের Newcastle-upon-Tyne এলাকায় T. M. Doyle একই ধরনের রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯২৮ সালে ভারতের Ranikhet অঞ্চলে Edwards রোগটি রিপোর্ট করেন, যার নাম থেকেই “রানিক্ষেত” নামটির প্রচলন ঘটে।
২. ইনফেকশাস ব্রংকাইটিস (Infectious Bronchitis, IB)
- ১৯৩১ সালে
- Schalk এবং Hawn
- যুক্তরাষ্ট্র
৩. ইনফেকশাস ল্যারিঙ্গোট্রাকাইটিস (ILT)
- ১৯২৫ সালে
- May এবং Tittsler
৪. গাম্বোরো রোগ (Infectious Bursal Disease, IBD)
- ১৯৬২ সালে
- Winterfield
- Gumboro, Delaware, USA
৫. ফাউল পক্স (Fowl Pox)
- ১৮৭৩ সালে
- Bollinger
৬. মেরেক্স রোগ (Marek’s Disease)
- ১৯০৭ সালে
- ড. József Marek
- হাঙ্গেরি
৭. এভিয়ান লিউকোসিস
- ১৮৬৮ সালে
- Roloff
৮. চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া (CIA)
- ১৯৭৯ সালে
- জাপান
৯. এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (Avian Influenza)
- ১৮৭৮ সালে
- Edoardo Perroncito
- ইতালি
১০. ইনফেকশাস বুরসাল ডিজিজ-সম্পর্কিত হেপাটাইটিস (IBH)
- ১৯৬৩ সালে
- যুক্তরাষ্ট্র
১১. এগ ড্রপ সিনড্রোম (EDS-76)
- ১৯৭৬ সালে
- Van Eck ও সহকর্মীরা
- নেদারল্যান্ডস
১২. ডাক প্লেগ (Duck Plague)
- ১৯২৩ সালে
- Baudet
- নেদারল্যান্ডস
পোল্ট্রির ব্যাকটেরিয়াল রোগের আবিষ্কারের ইতিহাস
১৩. ফাউল কলেরা
ফাউল কলেরার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- ১৭৮২ সালে ফ্রান্সে Chabert প্রথম রোগটি নিয়ে গবেষণা করেন।
- ১৮৩৬ সালে Mailet প্রথম “Fowl Cholera” নামটি ব্যবহার করেন।
- ১৮৮০ সালে Louis Pasteur জীবাণুটি পৃথক (Isolation) করেন এবং বিশুদ্ধ কালচারে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন।
- ১৮৮৬ সালে Hüppe রোগটিকে Hemorrhagic Septicemia নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯০০ সালে Lignières এভিয়ান পাস্তুরেলোসিস সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
১৪. সালমোনেলোসিস (Pullorum Disease)
- ১৮৯৯ সালে
- Rettger
- যুক্তরাষ্ট্র
১৫. ফাউল টাইফয়েড
- ১৮৮৮ সালে
- Klein
- ইংল্যান্ড
১৬. কলিব্যাসিলোসিস (E. coli)
- ১৮৯৪ সালে
- Lignières
১৭. আলসারেটিভ এন্টারাইটিস
- ১৯০৭ সালে
- যুক্তরাষ্ট্র
১৮. নেক্রোটিক এন্টারাইটিস
- ১৯৬১ সালে
১৯. গ্যাংগ্রেনাস ডার্মাটাইটিস
- ১৯৩০ সালে
২০. ইনফেকশাস কোরাইজা
- ১৯২০ সালে
- Beach
২১. মাইকোপ্লাজমোসিস
- ১৯৩৩–১৯৩৯ সালের মধ্যে Nelson প্রথম মুরগিতে মাইকোপ্লাজমা শনাক্ত করেন।
- ১৯৪৩ সালে Delaplane এবং Stuart রোগটিকে Chronic Respiratory Disease (CRD) হিসেবে বর্ণনা করেন।
২২. প্যারাটাইফয়েড
- ১৮৯৫ সালে Moore প্রথম কবুতরে রোগটি বর্ণনা করেন।
- ১৮৯৯ সালে Mazza মুরগিতে রোগটি শনাক্ত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মনে রাখতে হবে, একটি রোগের ইতিহাসে একজন বিজ্ঞানী প্রথম শনাক্ত করলেও পরবর্তীতে অনেক বিজ্ঞানী সেই রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ—
- রোগের জীবাণু পৃথক করেছেন।
- রোগের নামকরণ করেছেন।
- সেরোটাইপ নির্ণয় করেছেন।
- বিভিন্ন গ্রুপ বা স্ট্রেইনে বিভক্ত করেছেন।
- রোগের প্যাথোজেনেসিস, ভ্যাকসিন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেছেন।
তাই একটি রোগের ইতিহাস একাধিক বিজ্ঞানীর গবেষণার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।
উপসংহার
পোল্ট্রির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল রোগ ১৮৫০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যেই আবিষ্কৃত বা বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর গবেষণার মাধ্যমে এসব রোগের জীবাণু, রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া, রোগ নির্ণয়, ভ্যাকসিন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
একজন দক্ষ পোল্ট্রি চিকিৎসক বা শিক্ষার্থীর জন্য রোগের ইতিহাস জানা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বরং রোগ সম্পর্কে গভীর ধারণা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




