Breaking News

কবুতরের কমন রোগ।

কবুতরের কমন  রোগ।

(১) Canker – Trichomoniasis Canker
ক্যাংকার। ট্রাইকোমোনিয়াসিস নামক প্রোটোযোয়া দিয়ে হয়।

কবুতরের  কমন একটি রোগ যা সহযেই এক কবুতর থেকে অন্য কবুতরে ছড়াতে পারে। সাধারনতঃ বয়ষ্ক কবুতরের ক্ষেত্রে খাবার ও  পানির স্যাহায্যে এবং বাবা-মা এর থেকে  বাচ্চাতে  হয়।

আক্রান্ত কবুতরের মুখ থেকে পরা খাবার বা আক্রান্ত কবুতরের লালা  থেকে থেকে অন্য কবুতরে  হতে পারে।

আক্রান্ত কবুতরের মুখের ভেতর হাল্কা হলদে রঙের ঘা এর মতো দেখতে পাওয়া যায়।

ক্যাংকার নডুল কবুতরের মুখ, গলা, ক্রপ সহ পরিপাক তন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গে পাওয়া যেতে পারে। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেস্টের বেবীর নাভীতে অথবা কবুতরের সাইনাসেও দেখা যেতে পারে।
চিকিৎসা না হলে কবুতর মারা যায়।

👀লক্ষন:
(ক) মুখ গহবরে হাল্কা হলদে ঘা।
(খ) প্রচুর পানি পান করা। ওয়েট নেস্ট বা বেবীদের ড্রপিংসে প্রচুর পানি থাকার কারণে আতুড়  ভেজা থাকা – সাধারনত আক্রান্ত বাব-মা নিজেরা বেবীদেরকে প্রচুর পানি খাইয়ে দেয়।
(গ) উস্কো-খোস্কো পালক।
(ঘ) বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গলায় সংগক্রমনের ফলে টনসিলে নডুলের কারনে শ্বাস কষ্ট একটি কমন লক্ষন। ওড়ার পর বার বার ঢোক গিলার মতো করা।
(ঙ) খাবার কম খায় এবং ওজন হ্রাস কমে যায়
(চ) হজমে সমস্যা হয়
(ছ) ডাইরিয়া হয়
(জ)  অবশাদগ্রস্থতা, এক্টিভিটি কমে যাওয়া, উড়তে না চাওয়া।
(ঝ) মুখ থেকে রক্ত পড়ে।

👀প্রতিরোধ:
(ক) খাবার এবং পানি পরিস্কার রাখা
(খ) নতুন কবুতর আনলে ক্ষেত্রে বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা।
(গ) লফটে স্ট্রেস  যাতে কম হয়
(ঘ)  মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভাবে এন্টি ফাংগাল এবং মেট্রোনিডাযোল অথবা রোনিডাযোল গ্রুপের ড্রাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদান দাড়ুচিনির গুড়া ব্যবহার করেও ভালো ফল পাচ্ছেন।

(২) কবুতরের প্যারাটাইফয়েড
কবুতরের সব থেকে বেশী সংক্রামিত একটি রোগ যা ইদুর ,তেলাপোকা, লফটে আনা অসুস্থ নতুন কবুতর, জুতা কিংবা বুনো প্রজাতীর কবুতরের সংস্পর্শ  থেকে হতে পারে।
সংক্রামিত এডাল্ট কবুতর সুস্থ হবার পরো এই রোগের ক্যারিয়ার হয়ে বেচে থাকে। এদের ড্রপিংস থেকে মাঝে মাঝেই এই রোগ লফটে ছড়িয়ে পরতে দেখা যায়।

👀লক্ষন:
জীবানূ কবুতরের প্রায় সারা দেহে ছড়িয়ে পরতে পারে। তাই  রোগের লক্ষন অনেক ভাবে প্রকাশ পেতে পারে।

১। অধিকাংশ এডাল্ট কবুতরের ক্ষেত্রে দ্রুত ওজন হ্রাসের সাথে পাতলা সবুজ (আমযুক্ত আঠালো) ড্রপিংস দেখা যায়।
২। পা এবং ডানার জয়েন্ট ফুলে যাওয়া
৩। উইং বয়েল বা ডানার ওপরের দিকে ফোড়ার মতো ফুলে ওঠা।
৪। খুড়িয়ে বা পা ছেচড়ে হাটা  এবং ডানা ঝুলে যাওয়া।
৫। ডিম না জমা (ক্যারিয়ার পারেন্টস)
৬। ডিম ফোটার ২/৩ দিন আগে ডিমের ভেতর বেবী মারা যাওয়া (ক্যারিয়ার প্যারেন্টস)
৭। ডিম জমার কিছু দিন পর বেবী মারা যাওয়া এবং ডিম কালো এবং/অথবা হাল্কা হয়ে যাওয়া।
৮। নেস্টে বেবী কবুতরের শ্বাসকষ্ট হওয়া।
৯। নেস্টে বেবী মারা যাওয়া। সাধারনতঃ বেবী ফোটার দ্বিতীয় সপ্তাহের পূর্বেই এটা বেশী দেখা যায়, তবে আরো পরেও এটা হতে পারে। (ক্যারিয়ার প্যারেন্টস)
১০। টুইস্টেড নেক বা নেক প্যারালাইসিস যা টাল রোগ নামে পরিচিত। (কোন কোন ক্ষেত্রে)
১১। এক চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়া  এবং হঠাৎ করে  মৃত্যু হয়।
১২। সুস্থ সবল কবুতরের সার্বক্ষনিক ডাইরিয়া বা প্রচুর পানি সহ ড্রপিংস (ক্যারিয়ার)

👀প্রতিরোধ:
(ক) লফট হাইজিন মেনে চলা
(খ) নতুন কবুতর সংযোজনের ক্ষেত্রে বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা
(গ) ভ্যাক্সিনেশন। ভ্যাক্সিনেশন ছাড়া প্রকৃতপক্ষে সাল্মোনেলা সংক্রমন থেকে রক্ষা পাবার সম্ভাবনা কম কিন্তু আমাদের দেশে এই ভ্যাক্সিন সহযলভ্য নয়।
(ঘ) লফট ইদুর প্রজাতির প্রানী, তেলাপোকা মুক্ত রাখা এবং কবুতরকে বুনো কবুতরের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করা।
(ঙ) নিয়মিত পানিতে এসিডিফাইয়ার ব্যবহার করা একটি পরিক্ষীত কার্যকর প্রতিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে গন্য হয়। এক্ষেত্রে
-ACV : ৩ মিলি/লিটার
– বায়োট্রনিক ৩৪ : ১ মিলি/লিটার
– হেমিকো পিএইচ : ১ মিলি/লিটার
– ২৫ ফোটা লেবুর রস + ১ চামুচ চিনি + ১ চিমটি লবন ৫০০ মিলি পানিতে মাসে টানা ৫ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
(চ) স্ট্রেস নিয়ন্ত্রন

***  সংক্রমন হলে নুন্যতম ১০ থেকে ১৪ দিনের এন্টিবায়োটিক দেয়া।

(৩) পিজন পক্স:

সব চেয়ে কমন একটি রোগ

সব থেকে কমন পিজন পক্স সংক্রমনের উৎস হচ্ছে মশা। মশার কামড় থেকে ভাইরাস কবুতরের দেহে প্রবেশ করে এবং দেহের পশম হীন স্থানগুলোতে যেমন ঠোট, চোখের চার পাশ, পা, পায়ু পথের চারপাশ ইত্যাদি স্থানে মশার কামড়ের স্থানে হলদে গোটা তৈরি হয়। সাধারনত ৩/৪ সপ্তাহের ভেতর গোটাগুলো আপনা থেকেই শুকিয়ে পড়ে যায়।

দ্বিতীয় ধরনের সংক্রমন খুব সম্ভবত ড্রপলেট সংক্রমন যা শ্বসন-তন্ত্র দ্বারা সংক্রমিত হয়ে এটা সাধারনত মুখের মিউকাস মেমব্রেনগুলোতে ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি করে। এই ধরনের সংক্রমন মারত্মক। আক্রান্ত কবুতর সুস্থতা লাভ করলেও ঠোট বেকে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত কবুতর খাওয়া বন্ধ করে দেয়, দ্রুত ওজন হ্রাস পায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে, এবং আস্তে আস্তে মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে।

প্রায়শঃই এই দুই ধরনের সম্মিলিত সংক্রমন দেখা যায়। পায়ে এবং ঠোটে গোটা ওঠার সাথে সাথে মুখের ভেতরেও ঘা তৈরি হয়। অনেকে এই মুখের ভেতরে ঘা-কে ক্যাংকারের  মত মনে হয়।

যেমন: প্রতিদিন ইন্সুলিন নেবার সিরিঞ্জের সুচ দিয়ে গোটাগুলোতে পাংচার (গোটার ওপরের আবরন দু তিন স্থানে ফুটা করে দেয়া) করে দেবার পর ব্যাক্ট্রোসিন অয়েনমেন্ট লাগিয়ে দিলে দ্রুত গোটা শুকিয়ে যায়।

শুধু  ওপরের আবরনটুকু ফুটো করে দিতে হবে।

👀প্রতিরোধ:
(ক) ভাক্সিনেশন। আমাদের দেশে খুব সম্ভবত পাওয়া যায় না।
(খ) মশার কামড় থেকে কবুতরকে বিশেষ করে বেবী কবুতরকে রক্ষা করা।
(গ) লফট বা খাচা চট বা মশারীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা (সন্ধ্যা থেকে সকাল) একটি কার্যকর পদ্ধতি।

(৪)  রানীক্ষেত 
কবুতরের সব থেকে ভয়ংকর ভাইরাস রোগের ভেতর অন্যতম প্রধান।

৫০-৮০% মারা যেতে পারে।

বেচে থাকা কবুতরগুলো কম বেশী সবাই সাধারনত এই ভাইরাসের ক্যারিয়ার হয়ে যায়।

👀লক্ষন:
এ রোগের যে সব লক্ষন রয়েছে তা অন্য অনেক রোগকে নির্দেশ করতে পারে। একারনে প্যাথলজিকাল টেস্ট ছাড়া প্যারামিক্সোভাইরাস এর আক্রমন সনাক্ত করা খুব মুশকিল।

(ক) নার্ভাস সাইন:
-মাথা, ডানা এবং/অথবা চোখে সুক্ষ কম্পন
-ঘাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া, উলটে যাওয়া, বা নীচে ঝুলে পড়া (মনে হবে যেন মাথার ভার নিতে পারছে না)
-খাবার দানা ঠোটে নিতে সমস্যা বা ঠোকর দিয়ে লক্ষভ্রস্ট হওয়া
-ঠোটে ধরা দানা খাবার মাথার ঝাকুনিতে পেছনে ফেলে দেয়া।
-টলটলায়মান হাটাচলা
-চক্রাকার হাটা
-ওড়ার সময় অপ্রত্যাশিত ডিগবাজী, সোজা উড়তে না পারা,
-ল্যান্ডিং এর সময় আছড়ে পড়া
(খ) ডানা এবং/অথবা পা আংশিক প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া।
(গ) প্রচুর মুত্র সম্বলিত মল (অধিকাংশ সময় সবুজ হলেও ভিন্ন রংও হহতে পারে), বেশীরভাগ সময় প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্কার মুত্রের মাঝে সরু ভাঙ্গা ভাঙ্গা কঠিন মল (নুডুলসের ছোট টুকরোর মতো), যেখানে সাদা ইউরেট অনুপস্থিত থাকে।
(ঘ) ঝিমানো: খাবারের প্রতি অনিহা, নড়াচড়ায় অনিহা।
(ঙ) বমি করা অথবা মাথা ঝাকিয়ে বমির চেষ্টা করা।
(চ) শ্বাস কষ্ট হওয়া বা হা করে শ্বাস নেয়া
(ছ) চোখ দিয়ে পানি ঝড়া এবং/বা নাক দিয়ে পানি বের হওয়া।

👀প্রতিরোধ:
(ক) ভ্যাক্সিন এবং বা্সিযোকিউরিটি এই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া এই রোগ প্রতিরোধের দ্বিতীয় কোন পথ নেই। প্রচলিত পোল্ট্রির রানীক্ষেত ভ্যাক্সিন এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর নয়

(৫)  কক্সিডিয়া 
প্রচন্ড রকমের সংক্রামক এবং খুব কমন একটি রোগ। প্রায় সব লফটেই এর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায় এবং প্রায় সব এডাল্ট কবুতর প্রথম বার আক্রান্ত হবার পর নিজের দেহে এই রোগের ইমিউনিটি তৈরি করতে সক্ষম হয়।

এ কারনে প্রায় সব এডাল্ট কবুতরের দেহেই স্বল্প মাত্রায় এর উপস্থিতি থাকা সত্তেও সুস্থ থাকে। কিন্তু এই রোগ বেবী বা ইয়ং কবুতরের ক্ষেত্রে মহামারী আকার ধারন করতে পারে।
মুলত লফটের স্যানিটারি, হাইজিন এবং অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল সমস্যা থেকে এই রোগ দ্রুত ছড়ায়।

উষ্ণ স্যাতসেতে পরিবেশেও এই রোগে ছড়াবার জন্য আদর্শ। ইমিউন তৈরি হওয়া এডাল্ট কবুতর পুনরাক্রান্ত হলে নিজে সুস্থ থেকেও এই জীবানু ছড়াতে পারে যা ইয়ং কবুতরদের ভেতর সংক্রামিত হয়ে মাহামারী আকার ধারন করতে পারে।

👀লক্ষন:
(ক) গুজো দিয়ে থাকা।
(খ) উস্ক-খুষ্ক পালক
(গ) রক্তযুক্ত আমাশয়
(ঘ) সবুজ পাতলা মলের সাথে প্রচুর মুত্র
(ঘ) হাই তোলা বা অনৈচ্ছিক ভাবে মুখ খুলে শ্বাস নেয়া
(ঙ) প্যারালাইসিস
(চ) খাবারে অনীহা এবং ওজন হ্রাস
(ছ) পিপাসা বেড়ে যাওয়া।

👀প্রতিরোধ:
(ক)  বিশেষ করে খাবার, পানি, খাবারের পাত্র এবং পানির পাত্র সংক্রান্ত বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ন।
(খ) কবুতরকে ড্রপিংস এর সংস্পর্শ থেকে বাচিয়ে রাখা।
(গ) লফট শুষ্ক রাখা এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা।
(ঘ) ব্রীডিং এবং উড়ানোর মৌসুমের আগে এন্টি কক্সিডিয়াল ড্রাগ ব্যবহার করা।

(৬) কবুতরের হেক্সামিটা বা হেক্সামিটিয়াসিস:
এটা কবুতরের পরিপাকতন্ত্রের একটি রোগ যা প্রধানত কবুতরের ড্রপিংস এবং এই রোগের ক্যারিয়ারের মাধ্যমে ছড়ায়।

👀লক্ষন:
(ক) আমশয় যুক্ত গাড় সবুজ ড্রপিংস
(খ) মাড়ের মতো ঘোলা মল
(গ) দুর্গন্ধ যুক্ত মল
(ঘ) বমি
(ঙ) ওজন হ্রাস
(চ) প্রচন্ড তৃষ্ণা অর্থাৎ প্রচুর পানি পান করা
(ছ) ক্ষুদামন্দা অর্থাৎ খাবারে অনীহা
(জ) পানিশুন্যতা

👀প্রতিরোধ:
(ক) সাধারন বায়োসিকিউরিটি মেনে চলার দ্বারা খুব সহযেই এ রোগের প্রতিরোধ সম্ভব। বিশেষ করে খাবার, পানি, খাবারের পাত্র এবং পানির পাত্র সংক্রান্ত বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ন।
(খ) কবুতরকে ড্রপিংস এর সংস্পর্শ থেকে বাচিয়ে রাখা।

(৭) সাওয়ার ক্রপ বা কবুতরের বদ হজম:
কবুতরের বদ হজম একটি কমন সমস্যা যা নিম্ন মানের গ্রিট বা ফাঙ্গাস জমা খাবার, পচা খাবার দানা থেকে হয়।

অনেক সময় হ্যান্ড ফীডিং করা হচ্ছে এমন কবুতরেরো এই সমস্যা দেখা দিতে পারে – ঠান্ডা খাবার অথবা খাবার খাওয়াতে ব্যবহৃত অপরিষ্কার সিরিঞ্জ/টিউব/ড্রপার ইত্যাদির কারনে।

👀লক্ষন:
(ক) একদম খাবার না খাওয়া
(খ) ঠোট খুললে ক্রপের পচন ধরা খাবারের পচা গন্ধ আসে।
(গ) ক্রপে খাবার জমে থাকে।
(ঘ) ক্রপে পানি জমে থাকে।
(ঙ) বমি করে বা বমি করার চেষ্টা করে, এবং বমীতে টক টক পচা গন্ধ।
(চ) এডাল্ট কবুতর অনেক সময় নিজের পালক টেনে তুলে।
(ছ) স্বল্প মাত্রার বদ হজমে গলায় সাদা ঘা এর মতো দেখা যেতে পারে, যেটাকে অনেকে ক্যাংকার হিসেবে ভুল করেন।

👀প্রতিরোধ:
(১) খাবার মিক্স কড়া রোদে শুকিয়ে, প্রয়োজনে চুলায় গরম করে সংরক্ষন করা। এক সাথে কয়েক মাসের খাবার মিক্স বানালে প্রতি মাসে রোদে নতুন করে শুকিয়ে নেয়া অথবা চুলায় গরম করে নেয়া।
(২) খাবার মিক্সে ভুট্টা ভাঙ্গা ব্যবহার না করা।
(৩) আস্ত ভুট্টার ক্ষেত্রে ভুট্টাতে ছত্রাক জন্ম নিচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা
(৪) শুকনো গ্রিট দেয়া এবং নিয়মিত গ্রিট রোদে দিয়ে ছত্রাক মুক্ত রাখা।
(৫) ভালো মানের দানা দিয়ে মিক্স তৈরি করা।

(৮) কবুতরের মাইস, মাইট, লাইস এবমগ মাছি
এটি একটি অতি কমন সমস্যা যা থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা প্রায় অসম্ভব।

লফট নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার না করার ফলে উপদ্রব বেড়ে যায়। কবুতরের মাছি থেকে কবুতরের ম্যালেরিয়া রোগের সংক্রমন হতে পারে।

👀লক্ষন:
(ক) কবুতর ছটফট করে,
(খ) অনবরত ঠোট দিয়ে বা পা দিয়ে পালক/পশম ঝাড়ার চেষ্টা করে
(গ) ডিমে উম দেয়া বন্ধ করে দেয়
(ঘ) কবুতরের গায়ে মাছি হাটে
(ঙ) আলার বিপরিতে পাখা বা লেজ মেলে ধরলে পালকে কালো কালো বিন্দু দেখা যায়।
(চ) ডানা, লেজের পালকে ছিদ্র দেখা যায়।

👀প্রতিরোধ এবং প্রতিকার:
(ক) লফটের হাইজিনিক এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত রাখা।
(খ) নিয়মিত পরজীবি ধ্বংস্কারী ঔষধ ব্যবহার করা।
(১) আইভারমেক্টিন পোর অন ড্রপ : ঘাড়ের পেছনে, পিঠে, লেজের শুরুতে (পিঠের দিকে) এবমগ দুই ডানার নীচে এই পাঁচ স্থানে ১ ফোটা করে প্রতি মাসে এক বা দুইবার দেয়া
(২) আইভারমেক্টিন ১% : ১০ লিটার পানিতে ১ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করা বা কবুতরকে হাতে ধরে গোসল করানো। অথবা ১নং নিয়মের মতো ৫ ড্রপ দিয়ে দেয়া। আইভারমেক্টিন ১% দিয়ে কৃমি কোর্স করাবার দিনে এভাবে গোশল এবং গোসলের পর গা শুকালে ৫ ড্রপ ব্যবহার খুব কার্যকরী হয় এবং বেশ কিছু দিন উপদ্রব মুক্ত থাকতে সাহায্য করে।
(৩) নীম পাতার দ্রবনে গোশল বা স্প্রে
(৪) পটাশ মিশ্রিত পানিতে গোশল করানো
(৫) ইংলিশ উকুন নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করে হাতে গোশল করানো।

(৯) কবুতরের কৃমি:
সাধারনত অস্ব্যাস্থকর পরিবেশ, খাবারে সাথে মিশে থাকা ধুলা-বালি, ছেড়ে পালা কবুতরের বিভিন্ন যায়গায় ঘুরে ঘুরে খাওয়া, আক্রান্ত কবুতরের ড্রপিংস এসব থেকে কবুতরের কৃমি সংক্রমন হয়ে থাকে। সাধারনত হেয়ার, রাউন্ড এবং টেপ কৃমি দেখা যায়। কবুতরের ভেতর খাদ্য গ্রহন স্বাভাবিক বা বেশ ভালো থাকে কারন কৃমি তার খাবারগুলো খেয়ে নেয়।

👀লক্ষন:
(ক) পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহনের পরেও স্ব্যাস্থের অবনতি
(খ) ওজন হ্রাস
(গ) পাতলা ড্রপিংস

👀প্রতিরোধ:
(ক) তিন মাস পরপর কৃমি কোর্স করানো।
-এসিমেক ১% : ১ মিলি/ লিটারে
– এভিনেক্স : ১ গ্রাম/লিটার
– নিম পাতার দ্রবন
(খ) ভেটেরিনারী ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ৭ বা ১৪ দিন পর পর একাধারে দুই তিন বার কৃমি কোর্স করালে দীর্ঘ মেয়াদী কৃমি মুক্ত রাখা সম্ভব হয়।
(গ) ব্রীডিং সিজন এবং উড়ানোর সিজন শুরু হবার আগে কৃমি কোর্স করিয়ে নিলে সিজনের কার্যাবলীতে বাধা আসে না।
*** কৃমি কোর্সের আগে এবং পরে লিভার টনিক, ইলেক্ট্রোলাইট এবং পরবর্তীতেত প্রোবাইওটিক এবং মাল্টিভিটামিন ব্যবহার করা উচিত। কিছু কিছু গ্রুপের কৃমির ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটা প্রায় অপরিহার্য।

(১০) কবুতরের অর্নিথোসিস এবং অর্নিথোসিস কম্পলেক্স:
খুব কমন একটি রোগ। আক্রান্ত কবুতরের রেসিপিটরি ডিসচার্জ, ফেদার ডাস্ট, শুকনো ড্রপিংস এসবের দ্বারা বায়ুর মাধমে ছড়ায়।

এ রোগের ভার্টিকাল সংক্রমন হয় অর্থাৎ আক্রান্ত মাদী কবুতর থেকে ডিমে সংক্রমন হয় এবং রোগ নিয়ে বেবীর জন্ম হয়। আক্রন্ত কবুতরের রোগ নির্মুল প্রায় অসম্ভব, এবং ক্যারিয়ার হিসেবে বেচে থাকে।

আক্রান্ত হলে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা দেয়া উচিৎ। অর্নিথোসিসের সাতজে বেশীর ভাগ সময় শ্বসন্তন্ত্রের রোগ ছাড়াও অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন যুক্ত হয়, যাকে অর্নিথোসিস কমপ্লেক্স বলা হয়।

👀লক্ষন:
(ক) খারাপ পার্ফরমেন্স
(খ) ওড়ার ইচ্ছাহীনতা
(গ) গলায় লালচে ভাবের সাথে অনেক সময় “মিউকাস স্ট্রিং” এর উপস্থিতি
(ঘ) বাদামী ওয়াটেল বিশেষ করে নাক গহবরের ঠিক ওপরে
(ঙ) এক চোখে ঠান্ডা। সাধারনতঃ সেই চোখ থেকে পানি ঝড়ে এবং কবুতর ডানা/ঘাড়ের সাথে বার বার চোখ মুছে।
(চ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
(ছ) সবুজ ড্রপিংস (লিভার আক্রান্ত হলে)

👀প্রতিরোধ:
(ক) সাধারন বায়ো সিকিউরিটি মেনে চলা।
(খ) লফটে ধুলা বালির পরিমান নুন্যতম রেখে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা
(গ) প্রতিদিন ড্রপিংস পরিষ্কার করার মাধ্যমে এমোনিয়া লেভেল নুন্যতম।পর্যায়ে রাখা, প্রয়োজনে এমোনিয়া হ্রাস্করন ড্রাগ ব্যবহার।
(ঘ) ঘন বসতী পরিহার করে স্ট্রেস নুন্যতম পর্যায়ে রাখা
(ঙ) ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করা।
(চ) তুলশী দ্রবন বা রস, মধু, লাল সরিষা, কালিজিরা ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়ানো।
(ছ) নিয়মিত লফট (এক দুই দিন পরপর) জীবানুমুক্ত করন।
(জ) ওড়ানোর সিজনের আগে এবং সিজনে ৬ সপ্তাহ পরপর ৩ থেকে ৭ দিনের জন্য এপ্রোপ্রিয়েট (ভেট চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) এন্টিবাইওটিক ব্যবহার।

(১১) এয়ার স্যাক সমস্যা বা বায়ূপূর্ন থলি:
বিভিন্ন কারনে হতে পারে। খাদ্য হজমে সমস্যা, খাবার মিক্সে অতিরিক্ত পরিমান কার্বোহাইড্রেট এর উপস্থিতি, শ্বসন্তন্ত্রের রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে এটা হয়।

👀লক্ষন:
গলা, বুকের চামড়া বাতাসে ফুলে ওঠে।কবুতরের কমন রোগ

Abdullah  Wahidur Rahman

Please follow and like us:

About admin

Check Also

হাঁসের রোগ সমূহ

হাঁসের রোগ সমূহ এবং টিকার সিডিউল

হাঁসের রোগ সমূহ; ১।ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস #এটি মারাত্মক  সংক্রামক রোগ যা picorna virus দিয়ে হয়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!