বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পে সবচেয়ে বেশি যে রোগটি দেখা যায় তা হলো গামবোরো বা আই বি ডি (IBD – Infectious Bursal Disease)। পোল্ট্রি খামারিদের কাছে এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। এই রোগটি কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ করা খামারিদের পক্ষে কঠিন, কারণ অনেক কিছুই খামারির হাতের বাইরে থাকে। যেমন: এই রোগের জন্য হ্যাচারি, টিকার সিডিউল, টিকার কোয়ালিটি/ধরন এবং জীবাণুর ধরন দায়ী।

১৯৬২ সালে আমেরিকায় গামবোরো (ডেলোয়ার) নামক জেলায় প্রথম এই রোগ দেখা যায়, তাই এর নাম হয় “গামবোরো”। বিজ্ঞানী কোসব্রোট এটি আবিষ্কার করেন। ভারতে এটি দেখা যায় ১৯৭১ সালে। এমন ফার্ম খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে গামবোরো হয়নি। কারণ হলো এই ভাইরাসটি সব পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, pH ২–১২ এবং তাপমাত্রা ৫০° সেলসিয়াসে ৩০ মিনিট বেঁচে থাকে। তাই জীবাণুনাশকেও কাজ করে না এবং টিকার সিডিউল বা টিকাদান সঠিক না হওয়ার কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে গামবোরো প্রথম দেখা যায় এবং তা ভারত ও নেপাল থেকে বাচ্চার মাধ্যমে এ দেশে এসেছে বলে মনে করা হয়। বর্তমানে ব্রিডারে এমন উন্নয়ন হয়েছে যাতে মৃত্যুর হার কম হয়, কারণ মাতার কাছ থেকে এখন অনেক অ্যান্টিবডি নিয়ে আসছে। গামবোরো রোগ ফিড ও বাচ্চা কোম্পানির জন্য আশীর্বাদ, কারণ মরটালিটির জন্য বাচ্চা বিক্রির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে; বছরে প্রায় ২০ লাখ ব্রয়লারের মরটালিটি হয় গামবোরোর জন্য।

১৯৭০ সালে Hitchner “আই বি ডি” প্যাথোগ্নোমোনিক (Pathognomonic) লেসন আবিষ্কার করেন। সুস্থ হবার পর বার্ড ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে না, তবে সম্ভাব্য স্থানে ভাইরাস সেডিং (shedding) করে।

১. এপিডিমিওলজি (Epidemiology)

এজেন্ট (Agent):

এটি বিরনাভিরিডি (Birnaviridae) ফ্যামিলির আই বি ডি ভাইরাস, জেনাস ভিরনা ভাইরাসের (Birnavirus) মাধ্যমে হয়। এটি একটি নন-এনভেলপ্ড (Non-enveloped) আর এন এ (RNA) ভাইরাস। এই ভাইরাস লিটারে ও ফার্মে ১২০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এটি হাইলি কন্টাজিয়াস ও একিউট (তীব্র) রোগ। এই তীব্রতার জন্যই হঠাৎ করে অনেক মুরগি ৩-৪ দিনের মধ্যে মারা যায়।

  • ইনকিউবেশন পিরিয়ড: রোগের সুপ্তকাল ২-৩ দিন। ইনফেকশন হবার পর থেকে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার মাঝের সময়টুকুকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড যত বেশি হয়, রোগের পিরিয়ড তত বেশি মানে বেশি দিন ধরে রোগটি ফার্মে থাকে। তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে।

স্ট্রেইন (Strain):

স্ট্রেইন দুই ধরনের:

  • টাইপ ১: প্যাথোজেনিক

  • টাইপ ২: নন-প্যাথোজেনিক (টার্কিতে পাওয়া গেছে)।

টাইপ ১ (প্যাথোজেনিক) এর ৬টি রিলেটেড বা পারশিয়ালি রিলেটেড স্ট্রেইন আছে। এর সাইজ ৫৫–৬৫ নানামিটার। যেমন:

  1. ক্লাসিকেল (ক্লিনিক্যাল বা স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রেইন): ক্লাসিকেল স্ট্রেইন হলে বার্সা বড় এবং রক্তক্ষরণ হবে ও মুরগি মারা যায়। ১৯৭০ সালের দিকে ক্লাসিকেল আই বি ডি-কে মাইল্ড টিকা দিয়ে দমন করা হতো, কারণ সে সময় মাতা হতে প্রদত্ত অ্যান্টিবডি কম ছিল।

  2. ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইন: ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে বার্সা ১–২ দিনের মধ্যে ছোট হয়ে যায় কিন্তু রক্তক্ষরণ হয় না এবং মারা যায় না, একে সাবক্লিনিক্যাল বলা হয়। এটি প্রথম দিকে ছিল না, পরে তৈরি হয় এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাবক্লিনিক্যাল আই বি ডি-তে পারমানেন্ট ইমিউনোসাপ্রেশন হয় যার ফলে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়, বিশেষ করে শ্বাসনালীতে। আমাদের দেশে ভি ভি আই বি ডি (vvIBD), ভি আই বি ডি এবং মাইল্ড আই বি ডি দেখা যায়।

১৯৮০ সালের দিকে ভেরিয়েন্ট তৈরি হয় এবং আগের মাইল্ড টিকা আর কাজ করে না। এই ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইনকে দমন করা হয় ইন্টারমিডিয়েট এবং ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইনের সম্মিলিত টিকা দিয়ে।

ভেরী ভিরুলেন্ট (Very Virulent) আই বি ডি দেখা যায় ১৯৮৭ সাল থেকে। ভি ভি আই বি ডি-তে প্রচুর মৃত্যু হয়, একে দমন করা হয় ইন্টারমিডিয়েট প্লাস স্ট্রেইন দিয়ে।

এখন ক্লাসিক এবং ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইন একসাথে করে টিকা তৈরি করা হচ্ছে। টিকা সিডিউল তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে যে টিকা দেওয়া হবে তা যেন সেডে বিদ্যমান ভাইরাসের চেয়ে কম মারাত্মক হয়; বেশি মারাত্মক হলে পরে সে নিজেই রোগ তৈরি করবে যা আর টিকা দিয়ে দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এখন এমন টিকা তৈরি হচ্ছে যা মাতা হতে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি থাকা অবস্থায় কাজ করে। অনেক ডিসইনফেক্ট্যান্ট এবং পরিবেশের ফ্যাক্টরের প্রতি এই ভাইরাসটি রেজিস্ট্যান্ট। তবে ফরমালিন, গ্লוטারেলডিহাইড, ক্লোরিন, আয়োডিন এবং ০.৫% সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডে এই জীবাণু মারা যায়। রানিক্ষেত ভাইরাসকে মারার জন্য ইথানল, পটাশ এবং ফরমালিন, ক্রিসল ভাল কাজ করে। আই বি ডি ভাইরাসের pH ২-১২ মধ্যে ও টিকে থাকে, যার ফলে এটাকে কন্ট্রোল করা কঠিন। কিন্তু এন ডি (ND)-র ক্ষেত্রে pH বেশি হলে ভাইরাস মারা যায় তাই ফার্মে চুন দেয়া হয়। আক্রান্ত ফার্মে কয়েক মাস বেঁচে থাকে; পানিতে, খাবারে ও পায়খানায় কয়েক সপ্তাহ টিকে থাকে। রানিক্ষেত আক্রান্ত ফার্মে রানিক্ষেত ভাইরাস ১০০–২০০ দিন বেঁচে থাকে।

২. কিভাবে ছড়ায়?

  • আক্রান্ত মুরগির পায়খানার মাধ্যমে জীবাণু বের হয়ে আসে এবং তা খাদ্য, লিটার, পানিকে দূষিত করে এবং তা সুস্থ মুরগিকে আক্রান্ত করে।

  • সুস্থ হবার পর ও ১০-১৪ দিন ভাইরাস ছড়াতে পারে।

  • বাতাস, নিম্নমানের এবং মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা।

  • খামারের যন্ত্রপাতি, মশা, লিটার, পোকামাকড়, আক্রান্ত মুরগি, ডিমের ট্র্রে ও খাঁচা।

৩. হোস্ট (Host)

ব্রয়লার, লেয়ার, সোনালী, দেশী মুরগি আক্রান্ত হয়। কোয়েল, হাঁস, কবুতর, টার্কিতে তেমন হয় না হলেও মরটালিটি হয় না। তবে অনেকে কোয়েল এবং টার্কিতে ভ্যাকসিন দিয়ে থাকে।

একবার এই জীবাণু সেডে প্রবেশ করলে পরবর্তীতে অন্য ব্যাচেও গামবোরো হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তার জন্য চিকিৎসা খরচও বেড়ে যায়। ব্রয়লারে ৩ সপ্তাহ থেকে বিক্রি হওয়া পর্যন্ত (১৭–১৮ দিন থেকে) দেখা যায়, কোন কোন সময় এর আগেও কেউ কেউ পেয়েছেন। লেয়ারের ক্ষেত্রে ৩–৫ সপ্তাহে বেশি হয়, তবে সাদা মুরগিতে ১৮ সপ্তাহ এবং লাল মুরগিতে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত হয়। সব জাতের মুরগি বেশি সেনসিটিভ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বার্সা ছোট হয়ে যায় এবং ১০০–১২০ দিন পর বার্সা প্রায় বিলীন হয়ে যায় ফলে পরবর্তীতে আর দেখা যায় না।

৪. বার্সার সাইজ (Bursa Size)

  • ৭ দিনে: ৭ মিমি

  • ১৪ দিনে: ১৪ মিমি

  • ২১ দিনে: ২০ মিমি

সোনালীতে ১০ দিনেও দেখা যায়, কারণ এদের মাটারনাল ইমিউনিটি (Maternal Immunity) কম থাকে। ১ম ২ দিন মৃত্যুর হার আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে এবং ৩-৪ দিন পর লক্ষণ ভাল বোঝা যায় এবং বেশি মারা যায়। ৫-৭ দিনের মাঝে মুরগি সুস্থ হয়ে যায়।

আক্রান্তের হার ১০০% হতে পারে, মৃত্যুর হার ১–৫০% তবে ৭০%-৮০% ও হতে পারে তা নির্ভর করে স্ট্রেইন, মুরগির বয়স, অন্য রোগ ও পরিবেশের উপর। সাথে রানিক্ষেত হলে মৃত্যুর হার ১০০% হয়। মরবিডিটি (Morbidity) যত বেশি হবে মরটালিটি (Mortality) তত কম হবে। যেমন: এইচ ৫ এন ১ (H5N1) এর মরবিডিটি তেমন নাই অথচ মরটালিটি ১০০% হতে পারে। আবার কোরাইজার মরবিডিটি ২০–১০০% অথচ মরটালিটি তেমন নাই।

৫. অর্থনৈতিক গুরুত্ব

৩ সপ্তাহের বেশি বয়সের মুরগিতে তীব্র আকারে হলে অনেক মারা যায়। ৩ সপ্তাহের কম বয়সের মুরগিতে সাবক্লিনিক্যাল হলে লক্ষণ তেমন দেখা যায় না কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এফ সি আর (FCR) বেড়ে যায় এবং ওজন ভাল আসে না। থাইমাস এবং বার্সাতে প্রদাহ করে ফলে ইমিউনিটি কমে যায় এবং অন্য রোগ যেমন: রানিক্ষেত, আমাশয়, মারেক্স ও কলিব্যাসিলোসিস, আই বি এইচ, চিকেন ইনফেকশাস এনিমিয়া হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। গামবোরোর জন্য ফার্মে মাইকোপ্লাজমা ও সালমোনেলার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। বছরে প্রায় ১৫-২০ লাখ ব্রয়লার গামবোরোর জন্য মারা যায়।

৬. পরিবেশ

সারা বছর সব পরিবেশেই হয়, মানে শীত ও গরম ২ পরিবেশেই টিকে থাকে এবং রোগ তৈরি করে। তবে গরমে গামবোরো বেশি হয়। এটি যে কোন পরিবেশেই বেঁচে থাকে এবং সব জীবাণুনাশক দিয়ে ভাইরাস মারা যায় না। আক্রান্ত ফার্মে কয়েক মাস বেঁচে থাকে এবং খাদ্য, পানি এবং পায়খানায় কয়েক সপ্তাহ বেঁচে থাকে।

৭. প্যাথোজেনেসিস (Pathogenesis)

IBD Virus: Enter through oro and nasal route Then Viremia Go to bursa

৩ সপ্তাহের নিচে সাবক্লিনিক্যাল রূপে থাকে কারণ অ্যান্টিবডি, অ্যান্টিজেন, কমপ্লিমেন্টের ঘাটতি থাকে। আর ৩ সপ্তাহের বেশি হলে:

এটি বার্সা ও থাইমাসকে নষ্ট (নেক্রোসিস) করে দেয় ফলে ইমিউনিটি কমে যায়। নরমালী ৩-৪ মাস পর বার্সা ও থাইমাস নিঃশেষ হতে থাকে। কিন্তু বোন ম্যারো, সিপন ও GALT, BALT, CALT থেকে লিম্ফোসাইট তৈরি হয়। আই বি ডি হলে ইমিউনিটি তৈরি বন্ধ হয়ে যাবার কারণে আই বি, রানিক্ষেত ও মারেক্স ভ্যাকসিন দেয়ার পর ও কাজ হয় না। অনেক সময় দেখা গেছে গামবোরো থেকে সেরে ওঠার পর রানিক্ষেত, কক্সিডিওসিস, সালমোনেললোসিস, কলিব্যাসিলোসিস হয়ে থাকে।

ব্ল্যাড ক্লোটিং ফ্যাক্টরের ঘাটতি হয় ফলে হেমোরেজ হয়। ভাইরাসটির টার্গেট সাইট হলো বি-লিম্ফোসাইট। প্রচুর জ্বর থাকায় ক্যালসিয়ামের শোষণ কম হয় তাছাড়া ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায় যা সাদা কালার। তাই পায়খানা সাদা/চুনা হয়। তাছাড়া কিডনি আক্রান্ত হয়ে ইউরেট জমা হয় যা সাদা কালার।

৮. বার্সার পরিণতি

৩য় দিনে বার্সা বড় হতে থাকে, ৪র্থ দিনে সাইজ ও ওজন ডাবল হয়। ৫মে দিনে নরমাল সাইজে চলে আসে। ৬ষ্ঠ দিনে ছোট হতে থাকে, ৮মে দিনে পুর্বের নরমালের ১/৩ হয় মানে নরমাল সাইজ থেকে ছোট হয়ে যায়।

৯. লক্ষণ (Clinical Signs)

  1. ক্লিনিক্যাল ফাইন্ডিং (লক্ষণ) নির্ভর করে স্ট্রেইন, ভাইরাসের পরিমাণ, বয়স ও ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডির উপর।

  2. রোগ সংক্রমণের ২-৩দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়, ৩-৫দিনের মধ্যে যা মারা যাবার তা মারা যায়।

  3. প্রথম দিকে মুরগি তার পাখায় ঠোকরায় এবং সেখানে বিষ্ঠা লেগে থাকে।

  4. চুনা চুনা পায়খানা করে যদি কিডনি আক্রান্ত হয়।

  5. পালক উস্কো খুস্কো হবে।

  6. বসে থাকে, হাটাচলা করতে চায় না, খায় না।

  7. পানির মত ঘন ঘন পায়খানা করে (কিডনি জনিত সমস্যার কারণে)।

  8. ডিহাইড্রেশন হয়ে শক করে মারা যায়।

  9. খাবার ও পানি কামে যায়।

  10. গ্রোথ হয় না এবং ওজন কমে যায়।

  11. খিমায়, চোখ বন্ধ করে রাখে এবং অরুচিতে ভোগে।

  12. তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীর কাঁপতে থাকে।

  13. আক্রান্ত মুরগি মাথা সামনের দিকে নুয়ে রাখে।

  14. এক সাথে জমা হয়ে থাকে।

  15. ৩য় দিন থেকে মারা যায়, ৫-৭ দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যায়।

  16. বার্সার ব্যথার কারণে খাদ্যের মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে রেখে চোখ বন্ধ করে খিমায়। দেহে চলাফেরা করার মত শক্তি থাকে না।

  17. মৃত্যুর কিছু আগে অনেক মুরগি হঠাৎ পড়ে গিয়ে পা দুটো এদিক ওদিক ছোড়াছুড়ি করে মারা যায়।

  18. নিজের মলদ্বার ঠোকরায় এবং লিটারের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে হেলান দিয়ে রাখে।

  19. তীব্র আক্রমণে দেহের ভিতরে রক্তক্ষরণ ও ডায়রিয়া জনিত কারণে পানিশূন্যতায় শক করে মারা যায়।

  20. সাবক্লিনিক্যাল অবস্থায় বার্সা ছোট হয়ে যায় এবং রক্ত ক্ষরণ হয় না। এটি আই বি ডি ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইনের কারণে হয়।

১০. পোস্টমর্টেম (Post-mortem Findings)

  • বার্সা: নরমালি বার্সা দেখতে মটরশুটির মত, ওজনের ০.৩% হয়। প্রথম দিকে এটা ফুলে যায় এবং শেষের দিকে ছোট হয়ে যায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১/৩ অংশ। ৩ দিন থেকে বার্সা ফুলে যায়, ৬দিন থেকে বার্সা ছোট হতে থাকে এবং ৮-১০ দিন হলে বার্সায় কেসিয়াস কোর (caseous core) পাওয়া যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় বার্সা ক্রিম কালার এবং আক্রান্ত হলে হলুদ থেকে ধূসর কালার হয়। বার্সার ভিতর রক্ত এবং অনেক সময় সাদা পানির মত বস্তু দেখা যায়। Bursa enlarged or atrophied, haemorrhagic, mucus, gelatinous exudate or cheesy mass.

  • কিডনি: কিডনিতে ইউরেট জমা হওয়ার কারণে কিডনি ফুলে যায়।

  • মাংসপেশি: বুক, পিকোরিয়াল মাসল এবং রানের মাংসের রক্তবিন্দু (পেটেচিয়াল হেমোরেজ) দেখা যায়, কারণ এই ভাইরাস রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় (Bilateral Haemorrhage)।

  • অন্যান্য অঙ্গ: ডিওডেনামে মিউকাস পর্দায় রক্ত ক্ষরণ হয়। লিভার স্ফীত এবং রঙিন মারবেলের মত দেখায়। গিজার্ডের সেরাস এবং প্রোভেন্টিকুলাসের জাংশনের মিউকাস পর্দায় রক্ত ক্ষরণ হয়।

১১. ডিফারেন্সিয়াল ডায়াগনোসিস (Differential Diagnosis)

রানিক্ষেত, মারেক্স, ডিহাইড্রেশন, আই বি এইচ (IBH), সালফার ড্রাগ টক্সিসিটি/হেমোরেজিক সিন্ড্রম, পেল বার্ড সিন্ড্রম (ই-এর ঘাটতি), আফলাটক্সিকোসিস এর কিছু মিল আছে তাই নির্দিষ্ট বিষয়কে ধরে ডায়াগনোসিস করতে হবে।

  • রানিক্ষেত এবং গামবোরোতে প্রোভেন্টিকুলাসে হেমোরেজ হয় কিন্তু গামবোরোতে বার্সায় হেমোরেজ থাকে যা রানিক্ষেতে থাকে না।

  • মারেক্সে বার্সা ছোট হয়, তাছাড়া অল্প বয়সে মারেক্স কম হয়, মাসলে হেমোরেজ হয় কিন্তু গামবোরোতে কিন্তু মারেক্সে হয় না।

  • ডিহাইড্রেশন হলে বার্সা ছোট হয় এবং কিডনিতে ইউরেট জমা হয়। গামবোরোতে মাসলে হেমোরেজ পাওয়া যাবে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হবে।

  • হেমোরেজিক সিন্ড্রোমে মাংসপেশিতে হেমোরেজ দেখা যায় কিন্তু বার্সাতে থাকে না।

১২. রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি

হিস্ট্রি, লক্ষণ, পোস্ট মর্টেম, রেপিড টেস্ট, ইলাইজা (ELISA)।

১৩. প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ

৪টি বিষয় খেয়াল করতে হয়:

  • ক. ব্রিডারে সঠিক তথ্য: (৬-৮ সপ্তাহে লাইভ ও ১৭-১৮ সপ্তাহে কিল্ড এর পর ৪-৫ মাস পর আইবিডি + রিউ + এন ডি +আইবি টিকা দিতে হবে)।

  • খ. বায়োসিকিউরিটি।

  • গ. ব্রয়লারে সঠিক টিকাদান কর্মসূচী ও ভ্যাকসিন কোম্পানির নির্দেশনা।

  • ঘ. ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি ও ব্রেক থ্রু টাইটার কি:

ব্রেক থ্রু টাইটার হলো বাচ্চার এম ডি এ (MDA) যা ভ্যাকসিনের দ্বারা নির্ধারিত হয়। সর্বোচ্চ এম ডি এ টাইটার। বাচ্চার বডিতে যে মাত্রায় থাকলে ভ্যাকসিন টি সফলতার সাথে এম ডি একে অতিক্রম করতে পারে। লো ব্রেক থ্রু টাইটার এর চেয়ে হাই ব্রেক থ্রু টাইটার দ্রুত এম ডি এ কে ব্রেক করে আর্লি ভ্যাকসিনেশনের নিশ্চয়তা দেয়।

উদাহরণ: ইলাংকোর আই বি ডি এক্সট্রিম ভ্যাকসিনের ব্রেক থ্রু টাইটার ৮৩০, অন্য একটা কোম্পানির ৫০০। এর মানে হলো আই বি ডি এক্সট্রিম ভ্যাকসিন এম ডি একে ৮৩০তে নিয়ে আসবে (যে বাচ্চার এম ডি এ বেশি সেটাকে কমাবে আবার যার কম সেটাকে বাড়াবে)। ৬০০ এম ডি এ থাকার কারণে বার্সার ক্ষতি কম হয় তাই সেকেন্ডারী ইনফেকশন কম হয়। আবার যে ভ্যাকসিনের ব্রেক থ্রু টাইটার ৫০০, সেই সব বাচ্চার ব্রেক থ্রু টাইটার ৫০০তে নামিয়ে আনে। এতে বার্সার কিছু ক্ষতি হয়।

১৪. ভ্যাকসিন ফেইলারের অন্যতম কারণ: ভাইরাসের এন্টিজেনিক ভেরিয়েশন

ক. ব্রিডারে টিকা:

ব্রিডারে যদি সঠিক টিকা সিডিউল মেনে চলা হয় তাহলে মাতার শরীরের উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যাকে ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি বলে। তা ভাল থাকবে এবং বাচ্চাতে তা বজায় থাকবে। ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডির হাফ লাইফ ৪ দিন যা ২১ দিনে শেষ হয়ে যায়। টাইটার উঠতে ৪-৫ দিন লাগে।

ধরি ৩ দিন বয়সে টাইটার পাওয়া গেল ১২০০০, তাহলে ৬দিনে অর্ধেক হলে ৬০০০। আবার ৪ দিন পর মানে ৪+৭/১১ দিনে টাইটার হবে ৩০০০, ১১+৪/১৫ দিনে হবে ১৫০০, ১৯দিনে হবে ৭৫০। আর ভ্যাকসিন দেয়ার উপযুক্ত সময় যখন টাইটার ৭৫০-১০০০ হবে। তবে ইন্টারমিডিয়েট প্লাসের ক্ষেত্রে ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি কিছু থাকলেও সমস্যা হয় না কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট ভ্যাকসিন গামবোরো থাকা অবস্থায় দেয়া যাবে না যদি কোম্পানির নির্দেশনা না থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে তার আগে শেষ হয়ে যায় যদি ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি কম হয়।

রেপিড টেস্ট করেও টিকা দেয়া যায়। ১ম টিকা দেয়ার ৫দিন পর আবার ২য় টিকা দেয়ার ৫দিন পর রেপিড টেস্টে যদি টেস্টে পজিটিভ আসে তাহলে আবার টিকা দিতে হবে। আর যদি নেগেটিভ আসে তাহলে বুঝতে হবে আর ভ্যাকসিন দিতে হবে না।

সঠিক পদ্ধতি:

উচ্চ মাত্রায় টাইটার থাকা অবস্থায় ভ্যাকসিন দিলে ভ্যাকসিনকে নিউট্রালাইজ করে দেয় এবং এন্টিজেন এন্টিবডি বিয়োজন করে ফলে গামবোরো হয়ে যেতে পারে। ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন দিতে হলে এমডি এ ৫০০ হতে হবে যা ছোট অবস্থায় থাকে আর ইন্টারমিডিয়েট ভ্যাকসিন নিতে হলে এম ডি এ ২৫০ হতে হবে যা হতে সময় লাগে মানে দেরিতে দিতে হবে। সেই অনুযায়ী ১ম ভ্যাকসিন হয় ইন্টারমিডিয়েট প্লাস আর ২য় ভ্যাকসিন হয় ইন্টারমিডিয়েট ভ্যাকসিন।

আরেক টা শর্ত আছে সেটা হল সিভি/ভিভি যদি ৩৫-৭০% মানে বেশি হয় তাহলেও কিন্তু ১ম ভ্যাকসিন দিতে হবে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন। আমাদের দেশে টাইটার জানার সুযোগ যেহেতু হয়না সে ক্ষেত্রে আন্দাজে ভ্যাকসিন দিতে হয় আর আন্দাজে ভ্যাকসিন দিতে হলে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন দিতে হবে।

যদি ম্যাটারনাল এন্টিবডি জানা থাকে তাহলে এন্টিবডি হিসাব করে দিতে হবে ইন্টারমিডিয়েট ভ্যাকসিন আর যদি ম্যাটারনাল এন্টিবডি জানা না থাকে তাহলে দিতে হবে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন তবে সব সময় এই টিকা দিলে এলাকায় আই বি ডির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে। তাই বাচ্চা কোম্পানি থেকে জানতে হবে বা বাচ্চা কোম্পানীকে নিজ দায়িত্বে জানাতে হবে তাদের বাচ্চায় মাটারনাল এন্টিবডি কত আছে। জানা না থাকলে যদি ইন্টারমিডিয়েট ভ্যাকসিন দেয়া হয় তাহলে মাটারনাল এন্টিবডি নিউট্রালাইজ হয়ে গামবোরো হয়ে যাবে। হট ভ্যাকসিনগুলো মাটারনাল এন্টিবডি জানা না থাকলে দেয়া যাবে তবে এই ভ্যাকসিনের কারণে অনেক স্ট্রেস পড়ে, বার্সা ছোট হয়ে যায়, ইমিউনিটি কমে যায়। অন্যান্য ডিজিজ চলে আসতে পারে।

খ. বায়োসিকিউরিটি:

  • ৩৫ দিন সেডের ভিতর বাইরের কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

  • একাধিক সেড থাকলে আলাদা আলাদা জুতা এবং পোশাক রাখতে হবে।

  • ফুটবাথ ব্যবহার করতে হবে।

  • এক সেড থেকে অন্য সেডে যাওয়া যাবে না।

  • Lesser meal worm (গোবরের পোকা), মশা ও ইঁদুর দূরে রাখতে হবে।

  • বাচ্চা উঠানোর আগে সেড পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত এবং ফিউমিগেশন করতে হবে।

  • ০.২-০.৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড বা আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করতে হবে।

  • মুরগির খাবার ও পানির পাত্র ৫% ফরমালিন দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

  • মেঝে, দেয়াল এবং খাঁচা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

(সবগুলো বিষয় কমার্শিয়াল ফার্মে মেনে চলা সম্ভব না তাই তো সমস্যা লেগেই থাকে তবে ব্রিডার ফার্মে অনেকেই মেনে চলে।)

গ. ব্রয়লারে ক্ষেত্রে: (এম ডি এ) (ম্যাটারনাল এন্টিবডি)

ম্যাটারনাল এন্টিবডি হলো ইয়াক স্যাকের মাধ্যমে বাচ্চাতে যে এন্টিবডি স্থানান্তরিত হয়। এই ম্যাটারনাল এন্টিবডি প্যাসিভ ইমিউনিটি তৈরি করে ফলে ফ্লুক আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম থাকে। এই ম্যাটারনাল এন্টিবডি ইন্টারফেরেন্স তৈরি করে ফলে প্রয়োগকৃত ভ্যাকসিন ভাইরাস সহজে কাজ করতে পারে না যদি উচ্চমাত্রায় ম্যাটারনাল এন্টিবডি থাকে। ম্যাটারনাল এন্টিবডি থাকা অবস্থায় ইন্টারমিডিয়েট টিকা দিলে গামবোরো হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ম্যাটারনাল এন্টিবডি এবং হাফ লাইফ:

৩দিন বয়সে বাচ্চার ম্যাটারনাল এন্টিবডি মাপা উচিত, এই সময় সর্বোচ্চ মাত্রায় ম্যাটারনাল এন্টিবডি পাওয়া যায়। এই সময় যে ম্যাটারনাল এন্টিবডি পাওয়া যায় তার হাফ লাইফ ৪ দিন (ব্রয়লার), লেয়ারের ৪.৫ দিন।

তাই ৪-৫দিন পর পর হাফ লাইফ অর্ধেক হয়। যদি একটি ফ্লুকের এন্টিবডির হাফ লাইফ গড় ৮৫০০ ইউনিট এবং ৪দিন পর পর অর্ধেক হবে এবং এক সময় শেষ হয়ে যাবে। ফলে ফিল্ড ভাইরাস দ্বারা ফ্লুক আক্রান্ত হবে। মাটারনাল এন্টিবডি দেখে টিকার সিডিউল তৈরি করা উচিত কিন্তু আমাদের দেশে এখন তা তেমন প্রচলন হয়নি। তাছাড়া একেক কোম্পানির টিকার সিডিউল একেক রকম এবং বাচ্চার মান ও বিভিন্ন রকম, ইউনিফরমিটিও ভাল না। ভি ভি আই বি ডি হলে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস দেয়া উচিত।

কেউ কেউ নিচের নিয়মে ভ্যাকসিন দিতে বলেন:

  • যেসব বাচ্চার উচ্চ এবং সুষম এম ডি এ সেসব ক্ষেত্রে ১৪-১৬ দিনে ১টি টিকা দিলেই হবে।

  • যেসব বাচ্চার এম ডি এ সুষম না সে ক্ষেত্রে ২টি টিকা দিতে হবে। প্রথমটি ৮-১০ দিনে (ইন্টারমিডিয়েট, হেটারোজেনেসিটি ঠিক করার জন্য)। ২য়টি ১৫-১৭ দিনে (ইন্টারমিডিয়েট প্লাস, সব মুরগির প্রটেকশন দেয়ার জন্য)।

  • আর যদি এম ডি এ কম বা বেশি যাই থাকে সেক্ষেত্রে ১ম টিকা হবে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস বা মডিফাইড ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন।

গামবোরো হবার ৫-৭দিন আগে টিকা দিতে হবে। যদি ১৮দিনে গামবোরো হয় তাহলে টিকা দিতে হবে ১২-১৩দিনে।

১৫. ভ্যাকসিনের ধরন ও মডেল সিডিউল

Model Schedule: Gumbomed Plus (Incepta)

  • প্রাইমিং: ১০-১৪দিন

  • বুস্টারিং: ৭দিন পর (চোখে/নাকে/পানিতে) ৩০০, ৫০০, ১০-১২ শ ডোজ।

টিকা বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন:

  • মাইন্ড টিকা: এই টিকা এখন কম চলে। (ইন্টারমিডিয়েট)

  • ইন্টারমিডিয়েট: প্রায় (২২৮, আই বি ডি ব্লেন, আই বি ডি এনস্প্রিম)।

  • হট টিকা (উষ্ণতার ফিল্ড): আই বি ডি এল, গ্রাস জিপিন আই বি ডি, পারসিডিজা) জোর ডিস্পার্সড আই বি ডি-র জন্য এমন হেটারোজেনেসিটি প্লাস অ্যাটেনুয়েটেড প্রদেয়। ব্রেক ড্রু উচ্চতর এবং বাচ্চার উপর প্রভাব তাপ হতে হবে। তাই সে সব ক্ষেত্রে আর্লি আইবিডিনেশন, এম ডি এ কে তাড়াহুড়া করে কাজ না করে। নিউট্রালাইজেশনে সক্ষম।

জোড়া সেডের ক্ষেত্রে:

১ম বাচ্চার ক্ষেত্রে ১৫-১৭ দিনে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস।

নিম্নমানের বাচ্চার ক্ষেত্রে ছোটছোটদের ইমিউনিটি খারাপ হলে সিডিউল ৮-৯ দিনে ইন্টারমিডিয়েট প্লাস টিকা দিতে হবে এবং ১৫-১৮ দিনে ২য় টিকা, ইন্টারমিডিয়েট প্লাস। অনেকে ইন্টারমিডিয়েট সাথে কিঞ্চিৎ দেয়, ইন্টারমিডিয়েট ড্রাপকে বাদ দেয়া যায়, কিন্তু খারাপ প্রভাবের জন্য যাতে অ্যান্টিজেন স্বক্ষম বাড়ানো যায়।

ভ্যাকসিন সিডিউল কেমন হবে তা নির্ভর করে এলাকার রোগের প্রাদুর্ভাব, রোগের তীব্রতা, ভাইরাসের স্ট্রেইন এবং হেটারোজেনিটি টিকা, বাচ্চার মান, কোম্পানির ভ্যাকসিন প্রোটোকল ও টাইটারের উপর। গামবোরো টিকা পানিতে/মুখে দেয়া ভাল কারণ তার টার্গেট অঙ্গ হচ্ছে বার্সা।

 

১৬. চিকিৎসা

গামবোরো রোগের ধরণ কি কি তা আগে জানতে হবে কারণ চিকিৎসা হবে রোগের ধরন/তীব্রতা, রোগের ধরন।

গামবোরো রোগের ধরন:

  1. শুধুমাত্র গামবোরো মরটালিটি ১০-৫০% (লেয়ারের ক্ষেত্রে), কমার্শিয়াল খামারে অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে না।

  2. গামবোরো + কক্সি

  3. গামবোরো + মাইকোপ্লাজমা

  4. গামবোরো + কক্সি + মাইকোপ্লাজমা

  5. গামবোরো + রানিক্ষেত

  6. গামবোরো + সালমোনেলা + কক্সি

  7. গামবোরো + রানিক্ষেত + মাইকোপ্লাজমা + কক্সি

  8. গামবোরো + এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (H9N1)

(রোগের ধরণ অনুযায়ী এবং মরটালিটি একেক রকম তাই চিকিৎসাও হবে একেক রকম।)

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য এন্ট্রিভাইরাস যেমন: স্যাফ্রো, সেফট্রিয়াক্সন, নোরফ্লক্সাসিন।

পায়খানা ক্রমান্বয়ে গুটের করার জন্য ভিটামিন সি এবং রিবোফ্লাভিন ও পানির অভাব মেটাতে সি ফেয়ারলেস করা ভালো। তীব্র ক্ষতে আইবিডিপি, ফিড বা খাবার কম দিলে বা বন্ধ রাখা ভালো (৪০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে)। পটাশিয়াম গ্লুকোনেট জিংক মেটাইন বা দিয়ে (যদি মুরগি অতিরিক্ত সোডিয়াম বা পটাশিয়াম সংবেদনশীল হয়) লিভার ও কিডনির জন্য টক্সিন বাইন্ডার ও প্রোটিন পাউডার দেয়া ভালো। কিডনিতে সমস্যা হলে কিডনিটোনিক, সিট্রিমিন কে, সি এল ই ও-ট্রান দেওয়া যায়। ক্লিনিক্যালি সমস্যা কম হয় (রেমাটয়েডের জন্য কিটামিন কে নেওয়া লাগবে)।

ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে ব্যবহৃত নিয়মিত ওষুধের তালিকা (চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োগযোগ্য):

  • Ciprocin vet (স্কয়ার): ১ মি.লি/২ লিটার ৪-৫ দিন সকালের পানিতে।

  • Urinex (অপসোনিন): ১ মি.লি/১.৫ লিটার ৪ দিন সকালে।

  • Diclavet (একমে): ১ গ্রাম/২ লিটার ২বেলা সমপরিমাণ।

  • Envit C (স্কয়ার): ১ গ্রাম/১ লিটার পানিতে ৫দিন দুপুরে।

(অন্যান্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।)