Breaking News
খনিজ পদার্থ
খনিজ পদার্থ

পোল্ট্রির খনিজ পদার্থ(মিনারেলস)

পোল্ট্রির খনিজ পদার্থ(মিনারেলস)

খনিজ পদার্থঃ

দেহে খনিজ পদার্থের বহুবিদ কাজ রয়েছে।যেমন হাড় ও ডিমের গঠন ঠিক রাখা,দেহে এসিড ক্ষারের সমতা ঠিক রাখা এবং কোষের অস্মোটিক চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা। এছাড়াও খনিজ বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় এঞ্জাইমের কোফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।এদের অভাবে দেহে বিভিন্ন রোগ হতে পারে।বিপাক প্রক্রিয়ায় এদের অকের অধিক কাজ রয়েছে।ইহা দেহে প্রতিনিয়ত খুবই সামান্য পরিমাণে লাগে।মিনারেল হোমিওস্ট্যাসিস বলতে রক্তে খনিজের শোষণ এবং বের হয়ে যাবার কতকগুলো প্রক্রিয়াকে বুঝায়।

পোল্ট্র্যির জন্য কয়েকটি খনিজের তালিকা

ক।মেজর মিনারেলসঃ

ক্যালসিয়াম,ফস্ফরাস,প্টাসিয়াম,সোডিয়াম,ক্লোরিন,সালফার,ম্যাগ্নেসিয়াম ইত্যাদি।

খ।মাইক্রোমিনারেলসঃ

আয়রণ,জিংক,কপার,ম্যাংগানিজ,আয়োডিন,কোবাল্ট,মোলিবডেনাম,সেলেনিয়াম,ক্রোমিয়াম।

ক্যালসিয়ামঃ

খনিজের মধ্যে মুরগিতে ক্যালসিয়াম বেশি পাওয়া যায়।হাড়ের মধ্যে ক্যালসিয়াম সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।(.৩৫%)

যদিও রক্ত্ রসে ক্যালসিয়ামের সুনির্দিস্ট কার্যকারিতা রয়েছে।যেমন স্নায়ুবিক সাড়া, পরিবহন,মাংস পেশি সঙ্কোচন প্রসারণ,হরমোনের কার্যকারিতা এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।

উৎপাদনশীল মুরগিতে ক্যালসিয়ামের বড় ভূমিকা রয়েছে।যেমন ব্রয়লার মুরগির হাড়ের কাঠামো তৈরিতে এবং লেয়ার মুরগির ডিমের খোসা তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করে।

ক্যালসিয়ামের শোষণঃ

ক্যালসিয়াম দেহের ক্ষুদ্রান্ত হতে শোষিত হয়।ইহা বিশেষ ধরণের ক্যালসিয়াম বাইন্ডিং প্রোটিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যা কার্যকরী ভিটামিন ডি হতে তৈরি হয়।এই সম্পূর্ণ পদ্ধতিটি খাদ্যে মোট ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ,ভিটামিন ডি এর উপস্থিতি এবং দেহে ক্যালসিয়ামের মোট চাহিদার উপর নির্ভর করে। দেহে ক্যালসিয়ামের স্বল্পতা দেখা দিলে তা হাড় হতে আসে বা বেশী পরিমাণ অন্ত্র হতেশোষিত হয় বা কিডনি  হতে পূন শোষিত হয় যা প্যারাথাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে।আবার উল্টোভাবে  দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ   বেশি হলে ক্যালসিটোনিন প্যারাথাইরয়েডের কার্যকারিতা বন্ধ করে দেয়।

হাড়ে স্থায়িত্ব ঃযে সমস্ত পাখি দ্রুত বাড়ে বিশেষ করে ব্রয়লারের জন্য ক্যালসিয়াম খুব ই গুরুত্বপূর্ণ ।দ্রুত বর্ধনশীল মোরগ মুরগির হাড়ের স্থায়িত্ব বা শারীরিক কাঠামো দূর্বল হলে পায়ের উপর দাড়াতে পারে না।রেশন তৈরির সময় সব ক্ষেত্রেই মুরগির দ্রুত বেড়ে উঠার প্রতি নজর দেয়া হয়।

ডিমের খোসার মানঃ

ডিমের খোসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম(২.৫গ্রাম)/লেয়িং পিরিয়ডে সব সময়ই একই পরিমাণ ক্যালসিয়াম লাগেনা।ডিম পাড়ার বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যালসিয়ামের চাহিদা ততই বাড়তে থাকে।এই সময় ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা না মেটালে মোরগ মুরগির হাড়ের রিজার্ভ থেকে ক্যালসিয়াম ব্যবহার করে।এই ঘটনা দীর্ঘ সময় ঘটতে থাকলে হাড়ের স্থায়িত্ব সারাজীবনের জন্য নস্ট হয়ে যেতে পারে।

ফসফরাস ঃহাড় ও ডিমের খোসা তৈরিতে ফসফরাসের ভূমিকা ঠিক ক্যালসিয়ামের মতই ।এছাড়া অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন ফসপোলিপিড ,ফসপো প্রোটিন এর মূল উপাদান হচ্ছে ফস ফরাস।এছাড়া  এটিপি ও এডিপি এর মধ্যে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন  ফসফরাস রয়েছে।দেহে ফস ফরাসের শোষণ ক্যাসিয়ামের মতই।তবে প্যারাথাইরয়েডের হরমনের প্রভাবে অনেক ফস ফরাস কিডনি হতে বের হয়ে যায়।

ফসফরাসের সরবরাহঃ

খনিজ উৎসে অধিক ফসফরাস পাওয়া যায়।(অধিক তাপে প্রসেসিং করার সময়  ফস্ফরাস নস্ট হয়ে যায়)।উদ্ভিদে খুব কম পরিমাণে ফসফরাস থাকে।অধিকাংশ ফসফরাস উদ্ভিদে ফাইট্রেজ আকারে আবদ্ধ থাকে যা মুরগি হজম করতে পারে না।সুতরাং উদ্ভিজ উৎসে গড়ে ৩০% ফসফরাস পাওয়া যায়।যাকে এভেইলেবল ফসফরাস বলা হয়।

ক্যালসিয়াম ও ফস্ফরাসের অনুপাতঃ

এদের অনুপাত সঠিক হতে হবে।যদি দুটি খনিজ ই বেশি পরিমাণে থাকে তাহলে রেশিও কম বেশি হলেও সমস্যা  হয় না।তবে কোন একটি খুব কম বা বেশি হলে সমস্যা হতে পারে।যেমন খুব বেশি পরিমাণ ফসফরাস সরবরাহ করলে তার ডিমের খোসার স্থায়িত্ব কমে যায়।

ম্যাগ্নেসিয়ামঃএটি হাড়ের গঠনে ও অন্যান্য কার্যকারিতায় ক্যালসিয়াম ,ফসফরাসের মতই কাজ করে।অনেক এঞ্জাইমের কো ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে যা এ টি পি উতপাদনে সাহায্য করে।পুস্টি বিজ্ঞানে ম্যাগ্নেসিয়ামের অভাবের চেয়ে এর বিষ্ক্রিয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ ।

ট্রেস মিনারেলস বা মাইক্রো মিনারেলসঃ

এগুলো খুব কম পরিমাণ লাগলেও ইহা দেহের জন্য খুব জরুরী ।

এরা এঞ্জাইমের কো ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।পোল্ট্রি রেশনে অবশ্যই প্রয়োজনীয় অনুপাতে ট্রেস মিনারেলস থাকতে হয়।

আয়রণঃ

রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে ও অক্সিজেন পরিবহন করে।আয়রনের অভাবে রক্ত  স্বল্পতা ও পালকের রং নস্ট হয়ে যায়।

আয়োডিনঃ

মুরগিতে গলগন্ড ও থাইরয়েডে গ্রন্থির স্ফিতি খুব একটা হয় না।দীর্ঘদিন আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে ডিম পাড়া কমে যায় এবং ডিম হতে বাচ্চা ফোটার হার কমে যায়,যদি প্রতি কেজি খাবারে নিন্মতম ০.৩৫মিলি গ্রাম আয়োডিন থাকে তবে মুরগিতে আয়োডিনের অভাব জনিত রোগ দেখা দেয় না।

কর্মারশিয়াম মুরগির খামারে ব্যবহৃত খাবারের কারণে সাধারণ এর অভাব দেখা দেয় না।

জিংকঃএর অভাবে শারীরিক বৃদ্ধি কমে যায়,পালক ভাল ভাবে গজায় না,পায়ের হাটু ফোটে যায়।

তাছাড়া কখনো কখনো চামড়া খসখসে হয়ে গুটা গুটা হয়ে যেতে পারে এবং পায়ের তলা ফেটে যায়।

সেলেনিয়ামঃ

সেলেনিয়ামের অভাবে এক্সোডে্টিভ ডায়াথেসিস নামে একটা রোগ হয়.১মদিকে উস্কোখুস্কো পাল্ক, পায়ে জোর না পাওয়া শারীরিক বৃদ্ধি না হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।এগুলো ৫-১১ সপ্তাহের এই লক্ষণ দেখা দেয়।হার্ট ও গিজার্ডের মাংস পেশিতে এক ধরণের অব ক্ষয় দেখা যায়(Degeneration)।একে হোয়াইট মাসল ডিজিজ বলা দয়।

কপারঃ

এটি বিপাকীয় কার্যাবলীতে সাহায়্য করে,দেহে রক্ত উতপাদনে সাহায্য করে ও সুঠাম দৈহিক গঠনে সাহায্য করে।

এর অভাবে মুরগির পালকের  রঙ নস্ট হয়।

কপার-মলিবডেনাল ও সালফাইডের সমতার একটি সম্পর্ক আছে এবং প্রায়ই এর অসমতা হয়ে থাকে তাই কপার সাপ্লিমেন্ট অত্যন্ত দরকার।খনিজ পদার্থ

 

Please follow and like us:

About admin

Check Also

লেয়ার খাবার

পোল্ট্রির পুস্টি উপাদান

মোরগ মুরগির দেহের চালিকা শক্তি যোগান এবং উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ধরণের খাদ্য দ্রব্যের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!