Breaking News
লেয়ার খাবার
লেয়ার খাবার

পোল্ট্রির পুস্টি উপাদান

মোরগ মুরগির দেহের চালিকা শক্তি যোগান এবং উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ধরণের খাদ্য দ্রব্যের প্রয়োজন হয়।এদেরকেই ই পুস্টি বলে।বাস্তবিক অর্থে পুস্টির  নিদিস্ট কার্য্যক্ষমতা সহ নির্দিস্ট রাসায়নিক গঠন থাকে।

খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন পুস্টি উপাদান দেহের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য দায়ী।

এই সমস্ত উপাদান খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যমান থাকে।যে খাদ্যে যে পুস্টি অধিক পরিমাণে থাকে তাকে সেই জাতীয়   খাদ্য বলে।

যেমন

শর্করা জাতীয় খাদ্যঃভুট্রা,গম,চালের কুড়া,গমের ভূষিভুট্রা

আমিষ জাতীয় খাদ্যঃ সয়াবিন মিল,তিল,খৈল,শুটকি মাছ,মিট মিল,ব্লাডমিলসয়ামিল

চর্বি জাতীয় খাদ্যঃএনিম্যাল ফ্যাট,ভেজিটেবল ওয়েল।

ভিটামিন জাতীয়ঃশাকসব্জি,কৃত্রিম ভিটামিন

খনিজঃঝিনুক,ক্যালসিয়াম ফসফ্যাট,পানি,রক সল্ট,লবণ।

শর্করাঃ

এই খাদ্য মূলত কার্বন,হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত।এগুলো রিং আকারে ৫ বা ৬ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ থাকে.৬ কার্বন বিশিস্ট হেক্সোজ এর উদাহরণ হচ্ছে গ্লোকোজ,গ্যালাক্টোজ,ম্যানোজ ও ফোক্টোজ।

দুটি সাধারণ পেন্টোজ হচ্ছে এরাবিনোজ ও জাইলোজ।এই একক উপাদান গুলো কিছু কিছু সময় জটিল যৌগ আকারে পাওয়া যায়।এ রকম কিছু জটিল ডাইস্যাকারাইডস হচ্ছে

মাল্টোজঃগ্লোকোজ+গ্লোকোজ।

সুক্রোজঃগ্লোকোজ+ফোক্টোজ

ল্যাক্টোজঃগ্লোকোজ+ল্যালাক্টোজ

অলিগোস্যাকারাইড ও পলিস্যাকারাইডস আরো বেশি পরিমাণ একক মলিকুল বিদ্যমান।যেমন স্টার্চ এবং সেলোলোজ হচ্ছে গ্লোকোজ এর পলিমার।অর্থাত অনেক গুলো গ্লোকোজ দ্বারা গঠিত।

স্টার্চ হচ্ছে উদ্ভিজ পলিস্যাকারাইডস যেটা মূলত শস্য দানার মূল উপাদান.২ ধরণের স্টার্চ বিদ্যামান।

১।এমাইলেজ(কার্বনের সোজা চেইন)

২।এমাইলোপেক্টিন(শাখা প্রশাখাযুক্ত চেইন)

নির্ভেজাল শস্যের স্টার্চ  পোল্ট্রিতে ভাল হজম হয় যার মধ্যে অল্প পরিমাণ আলফা এমাইলেজ থাকে যা স্টার্চকে  ভেংগে গ্লোকোজ এ রুপান্তরিত করে/ইহা দেহে শোষিত হয়ে শক্তি উৎপাদন করে।ভুট্রা ও গম পোল্ট্রিতে ব্যবহৃত প্রধান উদ্ভিজ স্টার্চ।ইহা মুরগির প্রয়োজনীয় মোট আপাত বিপাকীয় শক্তির(apparent metabolisable energy0.৬ অংশ প্রদান করে।

বিভিন্ন রকম স্টার্চের অধিকাংশ ই পাখির শরীর থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়।যেমন সেলোলোজ ।কারণ সেলোলোজের কার্বন চেইনের গ্লোকোজ আলফা এমাইলেজ দ্বারা ভাংগে না।এই গুলোকে নন ডাইজেস্টেট পলিস্যাকারাইড বা বর্তমানে নন স্টার্চ পলিস্যাকারাইড বলা হচ্ছে।দ্রবনীয় নন স্টার্চ পলিস্যাকারাইডস পুস্টিগত মান রয়েছে যা পোল্ট্রিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

কাজঃ

দেহের তাপ উতপাদনের জন্য বিপাকীয় কার্যক্রমের সময় শক্তি সরবরাহ করে।মুরগির ক্ষেত্রে দানাদার শর্করা ৪০-৬০% আর আঁশ জাতীয় শর্করা ১০-৩০%  ব্যবহৃত হয়।

চর্বিঃচর্বিকে বলা হয় লিপিড।স্বাভাবিক তাপে ফ্যাট কঠিন অবস্থায় থাকে আর তরল অবস্থায় থাকে তেল হিসেবে।

লিপিড উদ্ভুজ ও প্রাণীজ উভয় উৎস থেকে পাওয়া যায়।কার্বোহাইড্রাইডেটের মত লিপিড কার্বন,হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত এবং একে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা হয়।

যেমন রক্ষিত(storage) এবং গাঠনিক(structural) লিপিড।

লিপিড যে কোন অবস্থায় পানিতে দ্রবনীয় ।সাধারণ বা সরল লিপিড ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারল সমন্বয়ে তৈরি।ফ্যাটি এসিড লম্বা  কার্বন অণুর চেইন যার একদিকে মিথাইল গ্রোপ এবং অন্যদিকে কার্বোক্সিল গ্রূপ থাকে।যেমন ch3    … CooH.

কার্বনের সংখ্যা সি ১২,১৩,২০ হতে পারে।কার্বন স ংখ্যার উপর ভিত্তি করে ফ্যাটি এসিডের দৈর্ঘ্য কম বেশি হতে পারে।

পোল্ট্রিতে ১২-২০ কার্বন চেইন গুরুত্বপূর্ণ ।আবার প্রত্যেক কার্বন অণূ নিজেদের মধ্যে বন্ধনের উপর ভিত্তি করে ফ্যাটি এসিড কে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে যেমন স্যাসুরেটেড ও আনস্যাসুরেটেড

প্রধান প্রধান লিপিডের উৎস ঃ

উদ্ভিদঃপ্রধানত অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড সয়াবিন ,তিষি,সূর্য্যমুখী,সরিষা,নারকেল।

প্রাণীজঃমূলত সম্পৃক্ত ফ্যাটি সিড গরুর মাংস,খাসির মাংস,শুকর মোরগ মুরগি।

মাছঃলম্বা চেইনের অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড

স্টোরেজ লিপিডের উদাহরণ হচ্ছে ট্রাই গ্লিসারল।

পোল্ট্রি পুস্টি বিজ্ঞানে ফ্যাট ও তেলের যথেস্ট্ ভূমিকা রয়েছে।ফ্যাটের শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা মোট হজমকৃত কার্বোহাইড্রেটের কম পক্ষে দ্বিগুণ ।সুতরাং উচ্চমানের ফিড তৈরিতে ফ্যাটের গুরুত্ব অপরিসীম ।ফ্যাট খাদ্যের স্বাদ উন্নত করে।

ডাস্টের বা ধূলাবালির পরিমাণ কমায় এবং ফিড মেসিনারিজের্       লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে।ফ্যাটের AME(aparent Metabolic Energy) নির্ভর করে ফ্যাটি  এসিডের সম্পৃক্ততা,মুক্ত ফ্যাটি সিডের পরিমাণ এবং মুরগির বয়সের উপর।

ফ্যাটের অক্সিডেশনঃ

কোন কোন অবস্থায় যেমন অধিক তাপমাত্রা ,আপেক্ষিক আর্দ্রতা ,অক্সিজেণ ইত্যাদির প্রভাবে ফ্যাট এবং তেলের অক্সিডেশন ঘটে ফলে এর গূণাগূণ নস্ট হয়ে যায়।বাস্তবিক অর্থে অক্সিডেশন ও উচ্চ তাপমাত্রায় কিছু কিছু বাই প্রডাক্ট তৈরি হয়।যার উপস্থিতিতে খাদ্যের পুস্টিমান নির্ধারণ করা মুশকিল,এমন কি সামান্য পরিবর্তনই তেলের মেটবলিক শক্তি কমিয়ে দেয়,অন্ত্রের ক্ষতি সাধণ করে,পুস্টি ধবংস করে ও পাতলা বা আঠালো পায়খানা করে।এই কারনে খাদ্যে  এন্টি অক্সিডেন্ট ব্যবহার করা জরুরী।মনে রাখতে হবে যে অক্সিডেশন একবার হয়ে গেলে তা আর ঠিক  করা যায় না।তাই এন্টিঅক্সিডেন্ট খাদ্য তৈরির সময়  যে কোন প্রক্রিয়ায় যত দ্রুত সম্বব যোগ করা উচিত।

পার অক্সাইড ভ্যালু নির্ণয়ের মাধ্যমে ফ্যাটের অক্সিডেশন পরিমাপ করা যায়।তবে এই টেস্ট  খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কোয়ান্টিটিভি গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি দ্বারা অকেইডেশন পরিমাপ করা যায়।

ইসেন্সিয়াল ফ্যাটি এসিডঃ

১৮ কার্বন বিশিস্ট এসিডযুক্ত  ২টি ডাবল বন্ধনের লিনোলেইক এসিডকে এশেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড বলা হয়।যা মোরগ মুরগির দেহে তৈরি হয় না এবং খাদ্যে অবশ্যই দিতে হয়।

লিনোলেইক এসিড দেহের মধ্যে দ্রুত এরাকিডোনিক এসিড এ পরিনত হয়ে পলি – অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড হিসেবে শরীরবৃত্তীয় কাজ সাধন করে।

এই এসিডের অভাবে পোল্ট্রি দৈহিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়,এর অভাবে চর্মরোগ হয়।চামড়া খসখসে হয়,দেহ থেকে পানি বের  হয়ে যায় ফলে বেশি পানি খায়।রোগের প্রতি অধিক সংবেদনশীল হয়।এফ সি আর বেড়ে যায়,পালক উস্কোখোস্কো হয়।ফ্যাটি লিভার হয়।মোরগের শুক্রাশয় ছোট হয়।

ডিমের উৎপাদন কমে যায়,আকার ছোত হয়,ডিমের উর্বরতা ও ফুটার হার কমে যায়।বাচ্চার আকৃতি ছোট হয় এবং দূর্বল হয়।

প্রোটিনঃপ্রোটিন

প্রোটিন অণূ কার্বন,হাইড্রোজেন,অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন সমন্বয়ে গঠিত।প্রোটিন হচ্ছে এমাইনো এসিডের লম্বা চেইন যা পেপাটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া  যায়।

কার্যকরী প্রোটিনঃএঞ্জাইম,সংযুক্ত টিসু,ইমোনোগ্লোবিউলিন।

গচ্ছিত প্রোটিন(স্টোরেজ)ঃউদ্ভিদের গ্লুটামিন।

ক্রুড প্রোটিনঃ

রেশনে মোট প্রোটিনের পরিমাণ অনেক আগে থেকেই ক্রুড প্রোটিন হিসাবে নির্ণয় করা হয়।ক্রুড প্রোটিন বলতে প্রোটিনের মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বুঝানো হয় যা একটি ফ্যাক্টর দ্বারা গুণ করতে হয়(সাধারণত ৬.২৫ যার দ্বারা বুঝানো হয় ,প্রতি কেজি প্রোটিনে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৬০ গ্রাম)কিন্তু এই হিসেব সব ক্ষেত্রে সঠিক না দুটি কারণে।

১ম কারণ পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নাইট্রোজেন প্রোটিনের উৎস হিসাবে ধরা হয়।এই হিসাব  সব সময় সঠিক না।

২য় কারণ প্রোটিনের নাইট্রোজেনের পারিমাণ ১৬০গ্রাম/কেজি করে হিসেব করা হয় যা একটি গড় হিসাব।

বিভিন্ন কাঁচামালে এই পরিমাণ ১৫৫-১৮৫ হতে পারে।

সুতরাং ফিড ফরমুলেশন করার সময় খাদ্যে মোট প্রোটিনের পরিমাণ,তার হজম হবার ক্ষমতা, খাদ্যে উপস্থিতি প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিডকে বিবেচনায় রাখতে হবে।সাধারণত উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় প্রানীজ প্রোটিন একক পাকস্থলীয় বিশিস্ট প্রাণীর জন্য উত্তম কারণ এতে সকল প্রকারের এমাইনো এসিড সুষম  ভাবে মিশ্রিত থাকে।

এমাইনো এসিডঃ

একটি মালা যেমন এক একটি ফুল দ্বারা গঠিত ,একটি দেয়াল যেমন একের পর এক ইট দ্বারা তৈরি তেমনি এমাইনো এসিড দ্বারা প্রোটিন তৈরি।প্রকৃতিতে ৩০০ ধরণের এমাইনো এসিড বিদ্যমান।এর মধ্যে ২০টি দ্বারা প্রোটিন গঠিত যা উদ্ভিজ,প্রাণী ও অনূজীবের দেহ গঠিত

ইশেনশিয়াল এমাইনোএসিডঃ

সাধারণভাবে যে সমস্ত এমাইনো এসিড এনিম্যাল টিস্যুর মধ্যে পাওয়া যায় তাদেরকে ইশেনশিয়াল এমাইনোএসিদ বলা হয়।(প্রায় ২০টি)এদের মধ্যে কিছু এমাইনো এসিড আছে যা প্রাণীর চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করতে পারে,কিছু এমাইনোএসিড আছে যা চাহিদা মাফিক তৈরি হয় না।কিছু এমাইনোএসিড প্রাণীর দেহে মোটেই তৈরি হয় না,শেষের ২টিকে আমরা এশেনশিয়াল এমাইনো এসিড বলি।বিভিন্ন প্রকার প্রাণী বিভিন্ন প্রকারের এমানো এসিড তৈরি করতে পারে।ফলে বিভিন্ন রকমের প্রাণীর জন্য  ইশেনশিয়লা এমানো এসিড বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

একথা অবশ্য মনে রাখতে হবে যে ,প্রাণীর শরীরে যে সকল এমাইনো এসিড পাওয়া যায় তা শরীরবৃত্তীয় ইশেনশিয়াল এমানোএসিড।এর বাহিরে কিছু রয়েছে খাবারের জন্য ইশেনশিয়াল এমানোএসিড।খাদ্যে ইশেনশিয়াল এমানোএসিড যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নন এশেনশিয়াল এমাইনোএসিড ও সমান গুরুত্বপূর্ণ ।

যদি শরীরে কোন ভাবে নন এসেনশিয়াল এমানো এসিড এর ঘাটতি পড়ে তবে দেহ তা নন প্রোটিন নাইট্রোজেন উৎপন্ন থেকে তৈরি করে নেয়।

অথবা ইশেনশিয়াল এমানোএসিড থেকে গ্রহণ করে।কিছু এশেনশিয়াল এমানোএসিড শুধুমাত্র খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়।

প্রোল্ট্রির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি এমানোএসিডঃ

আর্জিনিন,গ্লাইসি,হিস্টিডিন আইসোলিউসিন,লিউসিন,লাইসিন,মিথিওনিন,ফিনাইল এলানিন,টিফট্রোফেন,ভ্যালিন।

মাইনোএসিডের কার্যাবলিঃ

কোষের সাইটোপ্লাজম তৈরি করা

প্রোটিন কে সংরক্ষিত করে রাখে

হরমোন তৈরি করে

এঞ্জাইম তৈরি করে।

দুধের প্রোটিন ও এন্টিবডি তৈরি করে

রডোপসিন ও মেলানিন তৈরি করে।

শক্তি উৎপাদন করে।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

খনিজ পদার্থ

পোল্ট্রির খনিজ পদার্থ(মিনারেলস)

পোল্ট্রির খনিজ পদার্থ(মিনারেলস) খনিজ পদার্থঃ দেহে খনিজ পদার্থের বহুবিদ কাজ রয়েছে।যেমন হাড় ও ডিমের গঠন …

Translate »
error: Content is protected !!