Breaking News

পাকনা ডিলার এবং খামারীদের শায়েস্তা করবেন কিভাবে

পাকনা ডিলার এবং খামারীদের শায়েস্তা করবেন কিভাবে।খামারীরা অনেকদিন যাবত ফার্ম করার কারণে কিছু বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে তা ঠিক কিন্তু একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে কিছুই না।অনেক খামারী আছে যারা নিজেকে ডাক্তারের চেয়ে বেশি কিছু মনে করে,আবার কেউ কেউ এমন না হলেও ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন পরিবর্তন করে বা ডাক্তারকে খামারী ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে প্রয়োচিত করে বা ডাক্তারের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারেনা বা ডাক্তারকে অব মূল্যায়ণ করে বা ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে কথা বলে থাকে বা ডাক্তারের কাছে অন্য ডাক্তারের সমালোচনা করে বা দক্ষ ডাক্তারকে চিনতে ভুল করে।তারা এসব জানে না বলেই সাহস পায় কিছু বিষয় জানালে সাহস পাবে না।
কোয়াকের অপারেশনের মত।এক কোয়াক সব অপারেশন করতে পারতো,কিছুই মনে করতোনা।ফলে সব রোগী কোয়াকের কাছে যেত।ডাক্তারের কাছে কেউ যেত না পরে কোয়াককে বুদ্ধি দেয়া হল ট্রেনিং নিলে ভাল হবে অপারেশনে কোন ভুল হবেনা।শিখিয়ে দেয়া হল এভাবে কাটলে এই রগ কেটে যাবে,এইটা করলে মারা যাবে।ট্রেনিং এর পর কোয়াল আর সাহস পায়না অপারেশন করতে। ভাবে ভুল করে উলটা পালটা কেটে দিয়ে যদি মারা যায়।
খামারীর কাছে সব কিছু সহজ মনে হয় কারণ তাদের জগত টা কুয়ার মত তাই বেশি কিছু ভাবত পারেনা।পারার কথাও না তবু তারা চিকিৎসা দিয়ে থাকে। নিজেরা ভুল ডায়াগ্নোসিস করে এবং চিকিৎসাও দেয়।না জানলে সব সহজ,অল্প জানলে কঠিন,বেশি জানলে আবার অনেক সহজ।
এসব খামারীদের নিচের প্রশ্ন গুলি ছুড়ে দিবেন।
১.কেন ডিমের কালার পরিবর্তন হয় এবং দাগ পরে।
রোগ,ব্যবস্থাপনা,পরিবেশগত ধকল ও খাবারের কারণে হয়ে থাকে।(তবে সব কিছুর জন্য সমান পরিবর্তন হয় না।কোন টার জন্য বেশি কোন টার জন্য কম)যেমন১.ব্রংকাইটিস২.রানিক্ষেত৩.ই ডি এস৪.সাল্মোনেলোসিস৫.মাইকোপ্লাজমোসিস৬.মাইকোটক্সিকোসিস ৭.অধিক ধকল৮.অধিক প্রডাকশন ৯.অধিক আর্দ্রতা১০.অধিক তাপমাত্রা১১.অধিক অক্সিট্রেট্রাসাইক্লিন(অনেক দিন)১২.অধিক এমোনিয়া গ্যাস১৩.অধিক বয়স১৪.খাবারে কটন সিড১৫.লেয়ার -১ খাবারে ভুলে নাইকারর্বাজিন,মনেনসিন,রবেনিডিন দিলে১৬.খাবারে খাছের তেল দিলে
এখানে আমরা ১৬টি কারণ পাইলাম অথচ খামারী শুধু সাল্মোনেলা আর মাইকোপ্লজমা ছাড়া কিছুই পায়না,বড় জোর আরো ১-২টি ভাবতে পারে কিন্তু কারণগুলোকে আলাদা করতে পারেনা।তাই অল্প জেনে জ্ঞানী ভেবে নিজে বা ডিলারকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে নিজের ক্ষতি করবেন না।একমাত্র দক্ষ ডাক্তারই ১৬টি কারণ থেকে আসল কারণ খুজে বের করে চিকিৎসা দিতে পারবে।আশা করি এখন থেকে সাগরে সুই খুজতে যাবেন না।
নোটঃ১.১.ডিমের খোসার কোয়ালিটি খারাপ হয় কেন(ভাংগা,ফাটা,পাতলা,ঢেউ খেলানো,আকাবাকা)২.কুসুমের কালার খারাপ হয় কেন৩.ডিম ছোট হয়ে কেনএসব ক্ষেত্রে একই ঘটনা।তাই কোন খামারীকে যদি পাকন মনে হয় তাহলে লিস্ট ধরিয়ে দিতে কারণ বের করতে বলবেন।
নোটঃখামারী এবং ডিলারদের কাজ হল সমস্যা গুলির নাম জানা এবং সমস্যা গুলি যাতে ডাক্তারের কাছে বলতে পারে।
২.কোন সমস্যা হলেই কয়েকটি এন্টিবায়োটিক দিয়ে দেয়।খামারী/ডিলার জানেনা এন্টাগনিজম,মোড অফ একশন,সিনার্জেস্টিক কি,কোনটা এসিডিক বা ব্যাসিক,কোন টার সাথে পি এইচ দেয়া যাবে।কোন টা দিলে ডিম কমতে পারে।তাছাড়া সাইডাল,স্ট্যাটিক,ব্রড স্পেক্টাম বা ন্যারো স্পেক্টাম কিছুই জানেনা।
অল্প জানাতে হবে।ফলে ভয় ঢুকবে।
৩.রানিক্ষেত হইছে মানে সব মরলে এমনই ভাবে কিন্তু এটা যে লেন্টোজেনিক,মেসো বা ভেলোজেনিক,ভি ভি এন ডি বা সাব ক্লিনিকেল আছে তা জানেনা।
৫.এ আই শুনলেই মনে করে সব মরে যাবে অথচ এটা কয়েক ধরণের আছে কোনটায় মারা যায় না যেমন এইচ ৯এন ২,গেলেও অল্প যায়।আবার আছে এইচ ৫ এন১,এইচ ৭এন২.এগুলো ডাক্তার ই আলাদা করতে পারে।
৬.এ আই(৫) এবং কলেরা অনেক সময় একই,তাছাড়া রানিক্ষেত ও এ আই অনেক সময় মিলে যায় তাই ডাক্তার লাগবে।
৭.ঠান্ডা লাগছে খামারি শুধু মাইকোপ্লাজমা আর রানিক্ষেত,কেউ আবার গাম্বোরুকে বুঝে থাকে অথচ অনেক গুলো কারণ ঠান্ডা লাগতে পারে।ঠান্ডা কোন রোগ না অথচ এটাকে রোগ মনে করে।
আই বি,মাইকোপ্লাজমা,রানিক্ষত,এ আই,ইক্লাই,পুলোরাম এসবের কারণে হতে পারে যা ডাক্তার ছাড়া সম্বব না।তাই কোন খামারি ঠান্ডা বললে এসব ধরিয়ে দিতে হবে।
৮.বিস্টার কালার দেখে অনেক খামারী রোগের নাম বলে দেয় অথচ বিস্টার কালার দিয়ে রোগ নির্ণয় করা যায় না।
যেমন সাদা পায়খানা ইক্লাই,গাউট,আই বি এইচ,রানিক্ষেত,গাম্বোরু হলে পারে।
আবার সবুজ/নীল পায়খানা কলেরা,রানিক্ষেত,সালমোনেলা,এ আই,খাবার কম খেলে হতে পারে।
পাতলা পায়খানা হতো পারে সাল্মোনেলা,কলেরা,ইক্লাই,আমাশয়,গাম্বোরু,অধিক প্রডাকশন,অতিরিক্ত গরম,খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি হলে।
তাই এসব দিয়ে রোগ নির্ণয় করা যায় তবে হিস্ট্রি,লক্ষণ ও পোস্ট মর্টেম করে ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে থাকে।তাই আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর রাখা যায় না।
৯.গাম্বোরুর ভ্যাক্সিন সিডিউলও ১৩টি ফ্যাক্টরের উপর।নির্ভর করে যা ডাক্তার ছাড়া শিডিউল করা যায় না।তাছাড়া অন্যান্য ভ্যাক্সিন সিডিউল ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।কি কি ফ্যাক্টর জড়িত তা খামারিকে বললে ভয়ে আর নিজেরা কিছু করলে না।অল্প জানাতে হবে তাহলে ভয় পাবে।না জানলেই সহজ মনে করে সব করে।
১০.মুরগির রোগ/সমস্যা আছে প্রায় ৫০টির বেশি অথচ খামারীদের কাছে ১০টার বেশি মনে হয় না।
১১.ক্রনিক স্ট্রেসে/ধকলেও মুরগি মারা যায় কিন্তু খামারী তা জানে না।
১২.মুরগি শুকাইলে মেরেক্স না যেমন মেরেক্স,লিউকোসিস,এন্টারাইটিস,রানিক্ষেত,কৃমি,পক্স হলেও শুকাতে পারে।আবার।প্যারালাইসিসও বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন মেরেক্স,মাইকোটক্সিন,রানিক্ষেত,এভিয়ান এনসেফালাইটিস,রিও।
১২.যে কোন রোগ হলেই মুরগি ঝিমায়,খাবার কম খায়,পায়খানা খারাপ হয়,ডিম কমে যেতে পারে,ডিমের কালার পরিবর্তন হয়।খামারীরা এই সব দেখে নিজেই চিকিৎসা দিয়ে থাকে।
১৩.লেয়ার,সোনালী,ব্রয়লার,কোয়েল,হাস এবং টার্কি সবার একই রোগ হয় না।কিছু কমন রোগ আছে আবার আলাদাও আছে।তাই লেয়ারের রোগ হলেই ব্রয়লারের হবে তা কিন্তু না।এসব কিন্তু খামারী জানে না।আবার বয়স অনুযায়ী রোগ ও আলাদা কিছু আছে সব সময় হয়।সবার মরার হারও এক না যা খামারী জানে না তাই খামারীদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেয়া।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!