Breaking News

নিরাপদ পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের লক্ষ্যে এবং পোল্ট্রি ব্যবসার স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা, দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন এবং দেশের খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায়

বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোক্তার আস্থা এবং তাঁদের যৌক্তিক চাহিদা অনুসারে নিরাপদ পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের লক্ষ্যে এবং পোল্ট্রি ব্যবসার স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা, দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন এবং দেশের খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায়;

পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশের আহবানঃ-

দীর্ঘদিন ধরে দেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি, বিশেষ করে আপনাদের মত সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ খামারী যাঁরা নিজেদের সর্বস্ব বিনিয়োগ করে দেশের মানুষের জন্য প্রোটিনের যোগান দিতে শ্রম ঘাম মেধা বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরা এখন ক্রমাগত পুঁজি খুইয়ে দায় দেনায় জর্জরিত।

বর্তমানে পোল্ট্রি ব্যবসার এমন অসহনীয় পরিস্থিতির জন্য দায়ী- বিক্রয় মূল্য থেকে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়া অন্যদিকে ব্রয়লার মাংসের ভোক্তার সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাওয়া- যা মূলত শুরু হয়েছে সোসাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেইসবুক, ইউ টিউব এবং কিছু উদ্দেশ্য প্রনোদিত বিভ্রান্তিকর গবেষণা ও কতিপয় মিডিয়ার অপ্রতুল তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে অপরিনামদর্শী খবর প্রচার, যা পোল্ট্রি পন্যের প্রতি ভোক্তা বা ক্রেতার অনিহার সৃষ্টি করেছে, ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি কে গভীর সংকটের মুখে পতিত করেছে।

পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্রয়লার সহ অন্যান্ন মুরগী ও ডিম উৎপাদনকারীদের ভোক্তার বর্তমান সচেতনতার লেভেল ও চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে নিরাপদ ডিম এবং মাংস উৎপাদনের বিকল্প নেই।

নিরাপদ পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের জন্য দরকার পোল্ট্রি খামার ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের গুড প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের আন্তরিক চর্চা- যা অনুসরণ করে ইতিমধ্যে আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড সহ অনেক উন্নয়নশীল দেশ তাদের স্থানীয় ভোক্তার চাহিদা পূরণ করে প্রতি বছর বিদেশে বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডিম এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত ব্রয়লার মাংস রপ্তানি করছে। উল্ল্যেখিত দেশ সমূহের মত বাংলাদেশেও উন্নত খাদ্য, ভিটামিন ও বিভিন্ন গুনগত উপাদানের ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের বাচ্চা পালন করা হচ্ছে।

এশিয়ার উন্নয়নশীল পোল্ট্রি পন্য রপ্তানিকারী দেশগুলোর মত পোল্ট্রি প্রোডাকশনের জন্য আমদের সকল অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকার কারনে দেশে যে ভাবে ব্রয়লার উৎপাদন বাড়ছে সে অনুপাতে দেশের স্থানীয় বাজারে মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি করতে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি ব্যর্থ হচ্ছে।

পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির এমন ক্রান্তিলগ্নে- ভোক্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে, তাঁদের জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের লক্ষ্যে খামারী বা উৎপাদন পর্যায়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা এবং এন্টিবায়োটিক এর বিকল্প বায়ো-টেকনোলজি বা জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্ভুদ্ধ হওয়া এবং ভোক্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রচারনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই আর এ জন্য বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট সকল কে এক সাথে কাজ করতে হবে।

পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আপনারা যাঁরা চুড়ান্ত ধাপে পোল্ট্রি পন্য উৎপাদন করে একদিকে যেমন লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তেমনিভাবে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিকাশমান পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি কে সচল রেখেছেন।

এমতাবস্থায় নিজেদের পেশার সুরক্ষায় নিরাপদ ব্রয়লার এবং ডিম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে – অন্যান্ন দেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির মত আমাদের সকলের সমন্বিত প্রচেস্টা ও উদ্যোগের মাধ্যমে খামারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদিত ব্রয়লার ও অন্যান্ন পোল্ট্রি পন্যের লাভজনক বাজার মূল্য পাওয়া এবং দেশের মানুষের কাছে ব্রয়লার মাংস নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে পোল্ট্রি পালনে কতিপয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উন্নতি সাধন করা জরুরি –

পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ (পিপিবি) ভোক্তা খামারী এবং দেশের স্বার্থে একটি পোল্ট্রি সায়েন্স সংগঠন হিসাবে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কতিপয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহবান জানাচ্ছেঃ

১. খামারে বায়ো সিকিউরিটি পরিপূর্ণ ভাবে চালু করা এবং নিয়মিত বায়ো সিকিউরিটির নিয়ম গুলো নিজে পালন করা এবং প্রতিবেশী খামারীদের একই নিয়ম অনুসরণে উৎসাহিত করা।

২. রোগবালাই মুক্ত একদিন বয়সী বাচ্চা নির্বাচন এবং সঠিক গুনগত মানের নিরাপদ খাদ্য দিয়ে মুরগী পালনে অভ্যস্থ হওয়া।

৩. এন্টিবায়োটিক এর বিকল্প হিসাবে বিভিন্ন বায়োটেকনোলজিক্যাল উপাদান- যেমন প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিকস, সিমবায়োটিকস,এসিডিফায়ার,এসেনশিয়াল ওয়েল,অরগানিক মিনারেলস সহ বাজারে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রকার ফাইটোজেনিক প্রোডাক্টস ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ব্রয়লার, অন্যান্ন পোল্ট্রি এবং ডিম উৎপাদনে অভ্যস্থ হওয়া।

৪. খামারে সঠিক বায়োসিকিউরিটি নিয়ন্ত্রণ এবং বয়স অনুসারে সঠিক ভ্যাক্সিন প্রয়োগের মাধ্যমে ভাইরাসজনিত রোগের বিরুদ্ধে মুরগিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা- যা রোগ ব্যাধি অনেক কমিয়ে আনতে সাহায্য করে, উল্লেখ্য যে খামারে রোগবালাই যত কমে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরিমানও তত কমে আসে।

৬. নিরাপদ পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের জন্য রেজিস্টার্ড প্রানী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কারো যুক্তিতে অনাহুত আতংকিত হয়ে এন্টিবায়োটিক বা সালফা ড্রাগের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই ।

৭. এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে উইথড্রল পিরিয়ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা করা ব্রয়লার, মুরগী বাজারজাত করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে- এবং ইহা নিজেদের স্বার্থেই করা জরুরি।

৮. অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফাঁদে পড়ে ব্রয়লারের দ্রুত ওজন আনা থেকে বিরত থাকা এবং কোন কোন সুযোগ সন্ধানী ফিড উৎপাদনকারীর এফ সি আর এর চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে ভোক্তার জন্য সুস্বাদু এবং নিরাপদ ব্রয়লার ও মুরগী উৎপাদনের উদ্দেশ্য ব্যহত করা থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করা ।

৯. ব্রয়লারের বয়স ৩৫ দিন না পেরুলে ব্রয়লার মাংসের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না- ভোক্তার চাহিদার কথা বিবেচনা করে ছোট বড় সকল খামারিদের বড় ব্রয়লার উৎপাদন কল্পে ফিনিশার ফিড খাওয়ানোর জন্য বিনীত আহবান জানানো হচ্ছে (পৃথিবীর সব দেশে ব্রয়লার ৪০ থেকে ৪২ দিন বয়স পর্যন্ত পালন করা হয় এবং এ সময়ে ২.৫- ২.৭ কেজি ওজন অর্জিত হয়)

১০. ব্রয়লার পালনে এফ সি আর নয় ব্রয়লারের সাপ্তাহিক বা দৈনিক ওজনের চার্ট ধরে ব্রয়লার পালন যেমন লাভজনক তেমনি উন্নতগুনের মাংস উৎপাদন সম্ভব যা চুড়ান্ত ভাবে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোক্তাদের পূনরায় ব্রয়লার মাংস মুখি করে তুলবে বলে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সকলের বিশ্বাস।

প্রিয় খামারি ভাই ও বোনেরা-

আপনারই বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির মুল চালিকাশক্তি, ভোক্তার চাহিদার সাথে সমন্বয় করে আপনারাই পারেন আগামী দিনে এদেশের পোল্ট্রি পন্যের একটি স্থিতিশীল বাজার সৃষ্টি করতে এবং দেশিয় চাহিদার যোগান দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে পোল্ট্রি পন্যের বিদেশে রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত করতে।

আসুন সবাই মিলে নিরাপদ ও রপ্তানিমুখী ব্রয়লার, ডিম সহ অন্যান্ন পোল্ট্রি পন্যের বাজার সৃষ্টি এবং প্রসারের জন্য এক সাথে কাজ করি, নিরাপদ ও সুস্বাদু ব্রয়লার উৎপাদনে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার সীমিত করে খামার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে স্থানীয় এবং রপ্তানি বাজার সৃষ্টি ও প্রসার বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হই- নিজেদের সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাই।

নিজেদের ব্যবসা কে সুরক্ষিত করি- নিরাপদ পোল্ট্রি পন্য উৎপাদন করে দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করি।
ধন্যবাদান্তে
সমন্বয়ক
পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ (পিপিবি)
ঢাকা

Please follow and like us:

About admin

Check Also

পোল্ট্রির(ব্রয়লার) প্রসেস ফুড উৎপাদনকারী কোম্পানী ও তাদের প্রোডাক্টসের নাম ও দাম

পোল্ট্রির(ব্রয়লার) প্রসেস ফুড উৎপাদনকারী কোম্পানী ও তাদের প্রোডাক্টসের নাম ও দাম কোম্পানীর নাম ১।সিপি ২।কাজী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!