Breaking News
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে কি করণীয়
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে কি করণীয়

ইনকিউবেটরে ডিম থাকা অবস্থায় যদি দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে করণীয়

আমাদের দেশের ছোট খামারী ভাইয়েরা গ্রাম অঞ্চলে বাস করে, আর ছোট খামারিরা ইনকিউবেটর কিনতে পারলেও অনেক ছোট খামারী ভাইয়ের জেনারেটর কেনার সামর্থ থাকেনা, তাই অনেকে আইপিএস ব্যবহার করে থাকেন।
কিন্তু আইপিএস ব্যকআপ একটা নিদৃষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। কিন্তু যদি সেই সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ না আসে তবে লক্ষ টাকার আইপিএস ও কোনো কাজে আসেনা।
বিদ্যুতের এই সমস্যার কারনে অনেক খামারি ভাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেই সমস্থ ছোট খামারি ভাইদের জন্যই এই পোষ্ট।
“” ইনকিউবেটরের ভিতরে ডিমের ভ্রুন জিবিত থাকার মুল সম্পর্ক হচ্ছে তাপমাত্রার সাথে, বিদ্যুৎ না থাকলেও যদি তাপমাত্রা সঠিক রাখা হয় তবে ডিম নষ্ট হবেনা।
আমরা জানি ইনকিউবের ভিতরে আদ্রতা কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রন না করলেও ভ্রুন মারা যাবেনা, ডিম কিছু সময় না ঘুরালেও ভ্রুন মারা যাবেনা,কিন্তু তাপমাত্রা যদি কমে গিয়ে ডিম ঠান্ডাহয়ে যায় তবে ভ্রুনের মৃত্যু হবে।
আদ্রতা নিয়ন্ত্রন এবং ডিম ঘুরানো দুইটাই হাত দিয়ে করা যায়।
তাহলে আমরা যদি জরুরী অবস্থায় শুধু তাপমাত্রাকে সঠিক রাখি তবে ইনকিউবেটরের ভিতরের ডিম গুলো বিদ্যুতের কারনে নষ্ট হবার পরিমান কমে আসবে।

*প্রথম পদ্ধতী*

আমরা একটা তাপ কু পরিবাহী বক্স কিনে রাখবো, যেমন বাজারে কর্কশীটের বক্স পাওয়া যায়, সেই কার্কশীটের বক্সের ভিতরে তাপমাত্রা দীর্ঘসময় আটকে রাখা যায়,তাই বক্স গুলো ডিমের তাপ দীর্ঘসময় রাখতে সাহায্য করবে।

বক্স রেডি রাখার পরে একটা এ্যনালগ থার্মোমিটার অথবা HTC এর ব্যবস্থা করবেন,
এখন উক্ত কর্কশীটের বক্সের মধ্যে গরম কোনো বস্তু রাখলে দীর্ঘ সময় সেটার তাপমাত্রা থাকে, আর কতটুকু তাপমাত্রা রয়েছে সেটা থার্মোমিটারের সাহায্যে দেখে প্রয়োজন অনুযয়ী ভিতরে গরম বস্তকে গরম বা একটু শীতল করে ডিমের সঠিক তাপমাত্রা রাখলে ভ্রুন মরবে না।
গরম বস্তু হিসেব আমরা মোটা কম্বল ব্যবহার করতে পারি।
বিদ্যুৎ চলে যাবার পর একটা কম্বলকে গরম করে সেটা কর্কশীটের নিচে বিছায়ে দিয়ে তার উপর ডিম রেখে তার উপর আবার মোটা কম্বল গরম করে দিয়ে কর্কশীটের বক্স বন্ধ করে রাখুন। দেখবেন ডিম দীর্ঘ সময় গরম থাকবে।

এরপরে থার্মোমিটার টা ভিতরে রাখুন এবং বাহির থেকে দেখা যায় সেই জন্য কর্কশীটের বক্সে এটা ফুটো রাখতে পারেন।
বক্সের ভিতর ডিম রাখার পরে বাহির থেকে থার্মোমিটারে লক্ষ রাখবেন যখন তাপমাত্রা ৩৯ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে তখন বক্সের ভিতর তাপমাত্রা একটু কমানোর জন্য বক্সের টা খুলো কম্বল উল্টিয়ে দিবেন এবং তাপমাত্রা ৩৮ডিঃসেঃ এ আনবেন।

এর পর কখনো যদি বক্সের ভিতর তাপমাত্রা কমে গিয়ে ৩৩ডিঃ সেঃ এর নিচে আসে তখন কম্বল পুণরায় গরম করবেন।

মনে রাখবেন ৩৩ডিঃ সেঃ থেকে ৩৯ডিঃ সেঃ এর মধ্যে রাখবেন, (এখনে নিম্ন তাপমাত্রা ৩৩ডিঃসেঃ উল্লেখ করেছি কারন এটাতে ভ্রুনের মৃত্যুর সম্ভবনা নেই, তবে এটা শুধু মাত্র ডিমের ভিতর ভ্রুনকে জীবিত রাখার জন্য) কম্বল গরম করার অনেক পন্থা রয়েছে অল্প পরিমান আগুন জ্বালিয়ে আগুনের তাপে ধীরে ধীরে গরম করে নিতেহবে। সাধারণত একবার গরম করলে দীর্ঘসময় গরম থেকে যাবে।
*দ্বিতীয় পদ্ধতী*

যেহেতু ডিমে সঠিক তাপমাত্রায় রাখলে ভ্রুন জীবিত থাকে তাই তাপমত্রাকে দীর্ঘসময় বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতীতে গরম বা উৎত্তাপ্ত বস্তু ইনকিউবেটরে ভিতরে রেখে, সঠিক তাপ বজায় রাখার কাজ সম্পাদন করলেই সেটাই মূলত ভ্রুন জীবিত রাখার পদ্ধতী।
এখন আমরা যদি এমন বস্তু বাছাই করি যেটা একবার গরম করলে একটু বেশি সময় গরম থাকবে, তাহলে ডিমের ভ্রুনকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।

পাথর অথবা বালি গরম করে ইনকিউবেটরেরভিতরে রেখে দিলে পাথরে থাকা উত্তাপটা দির্ঘ সময় ইনকিউবেটরের ভিতরের তাপমাত্রাকে সঠিক রাখবে,

তবে যেটাই গরম করে রাখা হোক না কেনো, অবশ্যই ইনকিউবেটরের বডিকে শক্তিশালী তাপ কুপরিবাহী পদার্থ দ্বারা তৈরি হতে হবে, তবেই ডিমের ভিতর ভ্রুনকে জীবিত রাখা আরো সহজ হবে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্জকারি পদ্ধতী হচ্ছে কম্বল গরম করে ডিমের উপর বিছিয়ে রাখা, এছাড়াও যদি বাহিরে সূর্যের তাপ বেশি থাকে তবে কোনো কিছুর মধ্যে ডিম রেখে তার উপর মোটা কাপড় বিছিয়ে দিয়ে সূর্যের তাপে রেখে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রেখেও ডিমের ভিতর ভ্রুনকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
তবে যেভাবে ডিমে তাপ দেয়া হোক না কেনো সেই তাপমাত্রাকে অবশ্যই সঠিক তাপমাত্রা হতে হবে।
মনে রাখবেন তাপমাত্রা সঠিক থাকলে যেমন ডিম ফুটানো সহজ হয়ে যায়, তেমনি যে তাপমাত্রায় ভ্রুনের মৃত্যুর সম্ভবনা কম থাকে সেই তাপ ডিমে রেখেও ভ্রুনকে দীর্ঘদিন জীবিত রাখা যায়,এমন কি ডিম ফুটে বাচ্চা বের করানো যায়।

কাজেই তাপমাত্রা সঠিক কিনা সেটা লক্ষ রাখবেন।
৩৭.৭ডিঃসেঃ তাপমাত্রা ডিম ফুটানোর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা।
কিন্তু ভ্রুন নিরাপদে জীবিত রাখার জন্য ৩৩থেকে ৩৯ডিঃসেঃ তাপমত্রা ঠিক রাখলেই হবে, তবে ৩৩ডিঃসেঃ এ বা ৩৯ ডিঃসেঃ তাপমাত্রা দীর্ঘদিন রেখে ডিম ফুটাতে চাইলে ডিমের ভিতর ই সেই বাচ্চার মৃত্যুর ঝুঁকি থাকবে এবং বাচ্চা ফুটলেও দুর্বল হবে।

সেই জন্য শুধু ইমার্জেন্সি অবস্থায়৩৩ডিঃ সেঃ থেকে ৩৯ডিঃসেঃ তাপমাত্রায় রেখে ভ্রুনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কারন ৩৩ডিসেঃবা ৩৯ডিঃ সেঃ তাপমাত্রা ৩৭.৭তাপমাত্রার কাছাকাছিই থাকে তাই এতে ভ্রুনের মৃত্যুর সম্ভবনা কম থাকে।
এই কাজ গুলো যদিও একটু পরিশ্রমের তবুও বিপদের সময় নিরুপায় থাকার চেয়ে এই ছোট ছোট পদ্ধতী গুলো অনুশরণ করে অনেক টা সমস্য এড়িয়ে চলা যায়।

লেখক ঃআব্দুল ওহাব
Please follow and like us:

About admin

Check Also

হ্যাচারী

হ্যাচারীতে হ্যাচিং বাচ্চা্য় কি কি ত্রুটি হয়,কারণ এবং সমাধান

হ্যাচারীতে হ্যাচিং বাচ্চা্য় কি কি ত্রুটি হয়,কারণ এবং সমাধান ১।ভ্রূণ  মারা যাওয়া কারণ প্যারেন্টে সুষম …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!